বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'আওয়ামী লীগের চিরাচরিত নীতি হচ্ছে- তারা কোনো বড় কেলেঙ্কারি করে ধরা খাওয়ার পর যখন আর সামাল দিতে পারে না, তখন তারা জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে দোষ চাপায় বিএনপির ওপর। তারা ফেঁসে গেলে সব দোষ চাপায় বিএনপির ওপর।' বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আপনারা সরকারকে প্রশ্ন করুন ২০০৬ সাল থেকে বিএনপি ক্ষমতায় নেই, ক্যাসিনো যদি বিএনপি শুরু করে থাকে তাহলে ১৩ বছর সেটি চালু রাখলেন কেন? বন্ধ করলেন না কেন? হাছান মাহমুদ সাহেবও জানেন এবং এদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ জানেন, কবে, কোথায়, কারা ক্যাসিনো সংস্কৃতি চালু করেছে। দেশবাসী, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ক্যাসিনো শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। মাত্র ৭/৮ দিন হলো তারা ক্যাসিনো শব্দটি শুনছে আওয়ামী লুটেরাদের কল্যাণে। কারা শতাধিক ক্যাসিনো চালিয়ে আসছেন। তাদের গডফাদার কারা। কারা নেপালিদের হায়ার করে ক্যাসিনো চালাতে এদেশে এনেছে। কারা ক্যাসিনো মেশিন আমদানি করেছে। এগুলোতো বিএনপি’র শাসনামলে শোনা যায়নি। তারাতো ক্ষমতায় এক যুগ, এই ১২ বছর কি বিএনপি ক্ষমতায় ছিল? গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় ক্যাসিনো সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে কলাবাগান ক্লাবের হাত ধরে প্রায় ৭/৮ বছর আগে। যুবলীগের কয়েকজন নেতার নিয়ন্ত্রণে হয়েছে এই সংস্কৃতি। আর ২২ সেপ্টেম্বর কয়েকটি পত্রিকার অনুসন্ধানমূলক খবরে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও জুয়াড়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকায় ক্যাসিনোর বিস্তার ঘটান নেপালি নাগরিক দীনেশ ও রাজকুমার। একজন প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা তত্ত্বাবধানে এরা একের পর এক ক্যাসিনো খুলে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে তারা তাদের দেশে পাচার করেন। আর যুবলীগ নেতারা দেশে-বিদেশে গড়েন টাকার পাহাড়। ২০১৫ সালে ভিক্টোরিয়া ক্লাবে ক্যাসিনো খোলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ এ ব্যবসা শুরু করেন নেপালের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী দীনেশ ও রাজকুমার। তাদের এদেশে নিয়ে আসেন যুবলীগের এক শীর্ষ জুয়াড়ি।'
আরও পড়ুন: গান্ধিজীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে অভিজাত বেশে প্রধানমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন,' তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গতকাল রাজশাহীতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ক্যাসিনো সংস্কৃতি বিএনপি আমলেই শুরু করা হয়েছে। মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, মোসাদ্দেক হোসেন ফালুরা এগুলো শুরু করেছিলেন। তখন ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ পর্যায় এগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তথ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, তাদের ভেতরে বড় কোনো ঘাপলা রয়েছে, যে ঘাপলা এখনও উন্মোচিত হয়নি। তাই আওয়ামী চুনোপুঁটিদের ধরে এখন সেটিকে আড়াল করা হচ্ছে। আর সে জন্যই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে অপপ্রচার করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও হরিলুটের কুৎসিত চেহারাগুলো বের হয়ে যাওয়াতে তথ্যমন্ত্রী অন্ধের প্রলাপ বকছেন। তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ যদি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর চেয়ে মিথ্যাচার বেশি করতে না পারেন, তা হলে তার মন্ত্রিত্ব থাকবে না।'
রিজভী বলেন, 'প্রতিদিন ক্ষমতাসীন দলের ছোটখাটো নেতাদের ঘরে অবৈধ টাকার খনি আবিষ্কৃত হচ্ছে। জুয়া, ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ করে ঘরে ঘরে গড়ে তুলেছে টাকশাল, টাকার পাহাড়। টাকা লুকানোরও জায়গা পাচ্ছে না। কাজের লোকের বাড়িতেও কোটি কোটি টাকা সিন্দুকে ভরে লুকিয়ে রেখেছেন। এ সরকারের লোকজন জুয়া-ক্যাসিনোতে ভাসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। একটি মুসলিম প্রধান দেশকে নিষিদ্ধ জুয়া-ক্যাসিনোর দেশে পরিণত করা হয়েছে। এখন তাদের নেতা-এমপি-আমলারা ক্যাসিনোর পে প্রকাশ্যে সাফাই গাইছেন। তারা সবকিছু হালাল করার চেষ্টা করছেন।'
রিজভী আরও বলেন, 'বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন ক্ষমতাসীন দলের ছোটখাট নেতাদের ঘরে ঘরে অবৈধ টাকার খনি আবিষ্কৃত হচ্ছে। চারদিকে লুটপাট করা টাকার উৎসবের কথা মানুষ জানছে। জুয়া, ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, লুট করে ঘরে ঘরে গড়ে তুলেছে টাকশাল, টাকার পাহাড়। এখন নিজেদের বিপদ আঁচ করতে পেরে আবোল তাবোল বকছে। কোনো লাভ হবে না। জনগণের প্রতিরোধের আওয়াজ সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। পতন অনিবার্য। এখনো সময় আছে, সময় থাকতে সাবধান হোন, ব্লেম গেইম বন্ধ করুন, একটা তাহরির স্কয়ার হলে কেউ পাশে থাকবেনা।'
ইত্তেফাক/জেডএইচডি