সৌদি তেলশিল্প অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রেও নিশ্চিত হয়নি নিরাপত্তা

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরব বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় সত্ত্বেও সন্দেহভাজন ইরানের মিসাইল বা ড্রোন হামলা থেকে প্রধান তেলক্ষেত্রের হামলা ঠেকাতে পারেনি। এ থেকে দেশটির তেলশিল্প সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি শূন্যতা আছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সৌদি তেলশিল্প প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এ শূন্যতা অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক সরঞ্জামাদি দিয়েও পূরণ করা যায়নি। ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় আবকাইকে আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর রাজতন্ত্রশাসিত তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশটিকে উভয় সংকটে ফেলেছে। হামলার জন্য ইরানের ওপর প্রতিশোধ নেবে না ভবিষ্যত্ হামলা প্রতিরোধের ওপর আসল মনোযোগ দেবে তা এখনো স্থির করে উঠতে পারেনি। হামলা ইরান করেছে না ইরানি মদদপুষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা করেছে তাও স্পষ্ট নয়। হুতিরা যেখানে নিজেই হামলার কৃতিত্ব দাবি করছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তাদের সে দাবি কবুল করতে নারাজ। তার কথায় হুতিদের পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়। এমন অপকর্ম তেহরানের পক্ষেই সম্ভব। গত চার বছর ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতি বিদ্রোহীদের নির্মূলের জন্য ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে এসেছে। একটি একটি করে দেশ বেরিয়ে যাওয়ার পর এই জোটে এখন সৌদি আরব ছাড়া আর কেউ নেই। অন্যদিকে ইরানের ওপর বহাল রয়েছে একাধিক মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এসব নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে পিষ্ট ইরান প্রতিপক্ষ সৌদির তেল ক্ষেত্রে হামলা চালাতেই পারে। তবে ইরান অবশ্য এমন কাজ করার কথা দৃঢ় ভাষায় অস্বীকার করেছে।

পারস্য উপসাগরের তীর ঘেঁষে তেল শোধনাগারের পাশাপাশি সৌদি আরবের রয়েছে লবণ বিমুক্তকরণ প্ল্যান্ট। ইরানের ওপর যে কোনো হামলা চালালে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে তেল প্ল্যান্টগুলো যেমন ধ্বংস করবে তেমনি গুঁড়িয়ে দিতে পারে  লবণ বিমুক্তকরণ প্ল্যান্টগুলো। পুরো দেশে তখন বিশুদ্ধ খাবর পানি সরববাহে সংকট দেখা দেবে। মাইক পম্পেও গত সপ্তাহে সৌদি আরব সফর করেন। আবকাইক তেল প্ল্যান্টে এ ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি রোধে সামরিক ড্রোন ব্যবহার করা যেতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যে ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হোক এরকম হামলা ঠেকানোর সুযোগ আসলে খুবই কম। আমরা আগে কখনো এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন সৌদিতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা রয়েছে। যে কোনো বৈরী দেশের আক্রমণমণকারী প্লেন বা স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্যাট্রিয়ট সিস্টেম একটা নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপর কাজ করে। এর নিচে দিয়ে আসা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিতে সমর্থ নয় এটি। এ দিয়ে তেল প্ল্যান্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন গোয়েন্দা ও নজরদারি তথ্য দিয়েও রিয়াদকে সহায়তা করছে। কিন্তু এগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জয়েন্ট চিফস ও স্টাফের চেয়ারম্যান মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি ইঞ্চি জায়গার ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আ্যাান্টোনি কোর্ডসম্যান চলতি সপ্তাহে লিখেছেন, ‘আরামকো প্ল্যান্টে হামলা হুতি বা ইরান যেই করুক, একটি অতর্কিত হামলার সম্পূর্ণ নতুন একটি ধরন। প্রথাগত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি দিয়ে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে হলে পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।’