প্রেমের বিয়ের ছয় মাসের মাথায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। তার নাম তাসলিমা আকতার (২৩)। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর গুরুতর আহত এবং অচেতন অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের দেবর আলামিন বলেন, 'তাসলিমা ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে জানতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।' ঘটনার সময় তাসলিমার স্বামী আব্দুর রহিম রানা বাসায় ছিলেন না বলেও তিনি জানান। 

মৃতের বোন আকলিমা জানান, তাসলিমা এবং আব্দুর রহিম রানা প্রেম করে  বিয়ে করেছিলেন। তারা খিলগাঁও গোঁড়ান এলকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিয়ের পর কয়েক মাস পর থেকে তার পরিবারের লোকজন পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাসলিমাকে মানসিক নির্যাতন করতো। বিয়ের পর এক লাখ টাকাও তার স্বামীকে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, 'তাদের মানসিক নির্যাতনের কারণেই আজ এ ঘটনা।'

তাসলিমার বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার মহেষপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে। তাসলিমার স্বামী আব্দুর রহিম রানার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরে। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত।

সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির সহকারী  উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খান। তিনি বলেন, 'মৃত তাসলিমার বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে দেবর আলামিনকে আটক করা হয়েছে। আলামিন ইসলামী ব্যাংকের  ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী।

আরও পড়ুন: আগৈলঝাড়ায় সন্তানসহ নিখোঁজ গৃহবধূর সন্ধান মেলেনি এক সপ্তাহেও

তিনি বলেন, দেবরও তাসলিমাকে মানসিক নির্যাতন করতো বলে তাসলিমার বোন অভিযোগ করেন। বিষয়টি খিলগাঁও থানাকে জানানো হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু