ভাণ্ডারিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় রবিবার দিবাগত রাতে পৃথকভাবে উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে নুরজাহান হাবীব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ওই সংলগ্ন তারিন হোসেন কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল এবং একই এলাকার ১০নং পশ্চিম শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চুরি সংগঠিত হয়েছে।

সোমবার সরেজমিনে গেলে নুরজাহান হাবীব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার মজুমদার জানান, স্কুলে তার কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভেতর প্রবেশ করে স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে টাকা পয়সা না পেয়ে কাগজপত্রসহ অন্যান্য নথিপত্র তছনছ করে রাখে এবং পাশে শিক্ষকদের কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ক্যাশিয়ারের নগদ ৬০০শত টাকা ,একটি সাউন্ড বক্স এবং স্কুলে ঘণ্টা বাজানোর বেল (কাসার) নিয়ে গেছে।

এদিকে ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন তারিন হোসেন কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুলের নিচ তলার কেসি গেটের তালা কেটে উপরের তালা (দোতালায়) শিক্ষকদের কক্ষ থেকে স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে স্কুলে ফান্ডের ৭হাজার ২০০, ৩হাজার ২৪৫ টাকা এবং একই ড্রয়ারে একই স্কুলের শিক্ষক মেরিনা আফরোজের কসমেটিক্স এর দোকানে মাল কেনার জন্য জমা রাখা ২০হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোর  এবং অন্যান্য মালামাল তছনছ করে রেখে যায়। মেরিনা আক্তার স্কুলের ডিউটি শেষে অবসর সময়ে নিজের একটি পার্লারের ব্যবসা করেন।

অন্যদিকে একই এলাকার ১০নং পশ্চিম শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকণ্ঠ হালদার জানান, তার স্কুল থেকে একটি নতুন তালা, একটি রেইঞ্জ ও স্কুলে ঘণ্টা বাজানোর জন্য কাসার বেল চুরি হয়েছে। নৈশ প্রহরী আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান তাদের স্কুলে নৈশ প্রহরীর নিয়োগ দেয়া হয়নাই। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন খান জানান, তাকে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি ওই ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিমাদ্রী শেখর দেবনাথকে সরেজমিনে পাঠান এবং প্রধান শিক্ষককে থানায় একটি ডায়েরি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় ১৬৫টি স্কুলের মধ্যে ৪৬টি স্কুলে এপর্যন্ত নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এদিকে চুরি হওয়া এই তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না এবং ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ।

আরো পড়ুন: নুসরাত হত্যা মামলার রায় ২৪ অক্টোবর

এবিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, খবর শুনে ঘটনাস্থল থানা পুলিশ তদন্ত করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কোন লিখিত অভিযোগ দেয়া না হলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে থানা পুলিশ তদন্ত করে সঠিক রহস্য উৎঘাটনে তৎপর রয়েছে। তবে স্থানীয় একটি কোন্দলের কারণ এখানে কাজ করতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ