নাগেশ্বরীতে গত ১ মাসে ৪ খুন

নাগেশ্বরীতে গত সেপ্টেম্বর মাসে পৃথক ৪ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই ও অজ্ঞাত ব্যাক্তি দ্বারা স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জন নিহত হয়েছে।

জানা গেছে, মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে উপজেলার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলীর (৫০) লাঠির আঘাতে মারা যায় বড় ভাই আব্দুল ওহাব খা (৫৫)। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় নাগেশ্বরী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আসামি করা হয় দেবর মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম, ছেলে গোলাম মোস্তফা, আছিয়া বেগমকে। পুলিশ ওই দিনেই মোহাম্মদ আলী, তার ছেলে গোলাম মোস্তফা ও আছিয়া বেগমকে আটক করে।

পরদিন মঙ্গলবার সকালে টাইলস মিস্ত্রি মামুন মিয়ার (১৬) কাঁদামাখা লাশ পাওয়া যায় বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কি.মি দূরে রায়গঞ্জ ইউনিয়নের নেপারকুচি বিলের একটি ধানক্ষেতে। জনৈক কৃষক জমিতে সার ছিটাতে গিয়ে লাশ দেখতে পেয়ে তা এলাকাবাসীকে জানায়। খবর পেয়ে দুপুরে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশের মাথায় গভীর চোট, ঠোট ক্ষত বিক্ষত ও দাঁতগুলো উপরে ফেলানো ছিল।

নিহত মামুন মিয়া সন্তোষপুর ইউনিয়নের আলেপের তেপথি পুলিশটারী গ্রামের মৃত সাইফুর রহমানের ছেলে। পরিবার জানায় সে সোমবার সকালে কাজে বের হয়ে বাড়ি ফেরেনি। পরে এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা বেগম অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে নাগেশ্বরী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এ মামলায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ বলছে মামলার তদন্ত অনেকটা এগিয়েছে। তারা আশা করছেন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা সদরের গরু হাটের পাশে বানিয়া পাড়া গ্রামে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারনা অজ্ঞাত খুনীরা ওই রাতের যে কোন সময় ছকিয়ত উল্লার ছেলে দাদন ব্যাবসায়ী নজরুল ইসলাম মেনা (৫৫) তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুমী বেগমকে (৩২) হত্যা করে পালিয়ে যায়। দেড় বছরের শিশু রিফাতের কান্না শুনে প্রতিবেশীরা পরদিন শুক্রবার সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায় একরুমে টেবিলে মুখ থুবরে পড়ে আছে মেনা ও পাশের রুমে বিছানায় রুমীর নিথর দেহ। মায়ের মরদেহের পাশে বসে কাঁদছে শিশুটি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। ওইদিন দুপুরে নিহতের বড়ভাই ফজর আলী নাগেশ্বরী থানায় অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতির আত্মহত্যা

নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন কবির জানান, আমরা আশা করছি এ হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে জড়িত সকলকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।