রৌমারীতে চতলাকান্দা সেতুটি হুমকির মুখে

কুড়িগ্রামের রৌমারীর চতলাকান্দায় জনস্বার্থে নির্মাণ করে দেওয়া ডাচবাংলা সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। গেল বন্যায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সেতুর দুইপাশের অনেক অংশ ধসে যাওয়ার ফলে পুরো সেতুটি এখন চরম বিপদের মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয়রা নিজস্ব টাকায় ধ্বসে যাওয়া অংশে কাঠ, বাঁশ ব্যবহার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। তবে যে কোনো মুহূর্তে পুরো সেতুটি ধ্বসে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী ডাচবাংলা ব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ডাচবাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ গত ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি সেতুটি উদ্বোধন করেন। সেতুটি নির্মাণের ফলে বছরে ৯ মাস অবরূদ্ধ থাকা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা ৪০ গ্রামের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মুক্ত হয় যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে। দ্বার খুলে যায় সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলোতে। কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজেই হাটাবাজারে নিতে পারে এবং ন্যায্য দাম পায়। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পায়।

মঙ্গলবার সরেজমিনে চতলাকান্দায় ডাচবাংলা সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে,  বন্যায় সেতুর উভয় পাশের মাটি সরে গেছে। দক্ষিণ পাশের কিছু অংশ সেতু থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে সেতুর সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান, সেতুটি নির্মাণের ফলে বিশাল এই এলাকার মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুর অবস্থা এখন ভালো নয়। সেতুটি বেসরকারি ব্যাংক নির্মাণ করে দিয়েছে এ কারণে সরকারও সেতুটি মেরামতের জন্য কোনো প্রকল্প দিচ্ছে না। বর্তমানে সেতুর দুপাশের যে অবস্থা তা দ্রুত মেরামত করা না গেলে পুরো সেতুটি ধসে যেতে পারে। এজন্য আমি এলাকাবাসীর পক্ষ হয়ে ডাচবাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো সেতুটি মেরামত করে দেওয়ার জন্য। 

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গ্রেফতার ২

সংশ্লিষ্ট এলাকার শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, বন্যায় সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। আমার এক মেম্বারকে দিয়ে সেতুর দুপাশে মাটির কাজ করিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে। তবে দ্রুত তা মেরামত করা না গেলে পুরো সেতুটিই ধসে যেতে পারে।

ইত্তেফাক/নূহু