>> মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
‘পড়াশোনাও করি। আবার সাইকেলও চালাই। মাদকবিরোধী কার্যক্রম, সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবেশ বাঁচানো কার্যক্রম, হেলমেট ও গ্লালভসের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের সঙ্গে আলোচনা করি। সচেতন করার চেষ্টা করি।’ কথাগুলো বলছিলেন কাজী রিফাত হাসান। দিবস নামেই যার ব্যাপক পরিচিতি। তিনি একজন সাইক্লিস্ট। পড়াশোনার করছেন ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৫ম সেমিস্টারে। এরই মধ্যে দিবস প্রায় নয় হাজার কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ করেছেন। দিবস ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির প্রথম জিপিএস অ্যাপভিত্তিক সাইক্লিং চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। বিডি সাইক্লিস্ট কর্তৃক আয়োজিত মাসিক এন্ডোমন্ডো চ্যালেঞ্জ ২০১৯-এ ২৫০২.০৩ কিলোমিটার চালিয়ে ‘বিডি সাইক্লিস্ট হল অব ফেম’ অর্জন করেন। সাইকেল চালিয়ে দিবস এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের ৯ জেলা (ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর), খুলনা বিভাগের ৪ জেলা (বাগেরহাট, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদাহ) এবং বরিশাল বিভাগের ৪ জেলা (বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর) মিলিয়ে ১৭ জেলায় সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ করেছেন। তিনি ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির সদস্য। দিবসের বাবা নাম কে এম কামরুল হাসান (মিরাজ কাজী)। তিনিও একজন সাইক্লিস্ট ছিলেন। ২০১৬ সালে মে মাসে মারা যান। ২০০৬ সালের ঘটনা। দিবস তখন ছুটিতে বেড়াতে গেছেন নানা বাড়ি। সেখানে ভাড়ায় সাইকেল পাওয়া যেত। ভাড়া করা সাইকেল দিয়ে চালানো শেখেন। আর নিজে একটি সাইকেলের মালিক হন এ বছর। দিবস বলেন, ‘হাত খরচের টাকা জমিয়ে রাখতাম। জমানো টাকা আর মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে প্রথম সাইকেল কিনি।’ বাবা নেই। ছোট দু ভাই আর মা। ছোট কাঁধে যেন তার বড় দায়িত্ব। পরিবারের বড় সন্তান তিনি। পড়াশোনা আর সাইক্লিং, তাও দেশের বিভিন্ন স্থানে, সমস্যা হয় না? প্রশ্নটা শুনে দিবস মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ‘পড়াশোনা ঠিক রেখে যাই করি কোনো সমস্যা নেই। মনে রাখতে হবে পড়ালেখা হলো ১, আর বাকি সব পারদর্শিতা হলো ০। ১-এর পরে যত ০ লাগাতে পারেন ভালো, কিন্তু আগে ঐ ১টা ঠিক রাখতে হবে। এই কথাটা শুরুতেই পরিবার থেকে আমাকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে। আমি এটাই মেনে চলেছি। পড়াশোনা ঠিক রেখেই সাইক্লিং করা যায়।’ দিবসের আরো বলেন, ‘সাইক্লিং একজন কিশোরকে অনেক খারাপ নেশা থেকে দূরে রাখে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। সাইক্লিং শরীর তো ভালো রাখেই, উপরন্তু খোলা আকাশের নিচে, গাছে ঘেরা রাস্তায় সাইকেল চালালে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এতে করে মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমানোর জন্য এটি খুব ভালো একটি উপায়। অন্য যেকোনো ব্যায়ামের চেয়ে সাইক্লিং অনেক বেশি এনার্জেটিক এক্সারসাইজ।’ কেবল সাইক্লিংই নয়। পাশপাশি দিবস একজন স্কাউট। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্টস স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। নতুন যারা সাইকেল চালাচ্ছেন, তাদের দিবস হেলমেট ও গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। দিবসের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হলো সাইকেল চালিয়ে দেশের সব কটি জেলা এবং দেশের বাইরে ভ্রমণ করা।