>> সাইফুল ইসলাম
একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা ইফতেখার রেজা। বিদেশে পড়তে গিয়ে নিজ উদ্যোগে বিদেশের মাটিতেই গড়ে তুলেছেন সফল ফুড ডেলিভারির সার্ভিস। সেই সঙ্গে পেয়েছেন জাপানের প্রথম বিদেশি উদ্যোক্তার স্বীকৃতি।
ঢাকায় জন্ম আর বেড়ে ওঠা রেজার। বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার। ধানমন্ডি গভমেন্ট বয়েজ হাইস্কুলের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি, তারপর সিটি কলেজে থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১৪ সালে বিবিএ করতে জাপানের রিতসুমেকান এশিয়া প্যাসিফিক (এপিউ) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন রেজা। ভর্তির কিছু দিন পর তিনি ফুড মানকি নামে অনলাইনে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘জাপানে ভর্তি হওয়ার পর বেপ্পু শহরে থাকতাম। সেখানে রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ছিল খুবই কম। আর যেগুলো ছিল, সেগুলোর দূরত্ব ছিল অনেক বেশি। তাছাড়া সব রেস্টুরেন্টই খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যেত। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের খাবারের সমস্যা হতো। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমার এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করি। এর কিছুদিন পর আমার এই ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের যাত্রা শুরু করি।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে আমার গ্রাহক ছিল শুধু বিদেশি শিক্ষার্থীরা। এখন আমি স্থানীয়দের কাছেও ফুড ডেলিভারি দিয়ে আসছি। বেপ্পু শহরে বয়স্ক লোকের সংখ্যা বেশি। যাদের বয়স একশর মতো, তারা নিজেদের খাবার রান্না করে খেতে পারেন না। আমরা তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ডেলিভারি দিয়ে থাকি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশে একটা ব্যবসা চালু করা খুবই কঠিন। তাছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি তা ছিল আমার কাছে খুবই চ্যালেঞ্জিং। জাপানে লোকবলও তেমন পাওয়া যায় না। সবাই পার্টটাইম কাজ করে। যখন শুরু করি, তখন আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় ভাষা। জাপানের আইন খুবই কঠিন। আমাকে জাপানের সকল আইন জানতে হয়েছে। আমি জাপানের কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি থেকে কোনো সাহায্য পাইনি। অথচ যেখানে জাপানিরা কোনো ব্যবসা শুরু করার আগে লোন নিতে পারে।’
বিদেশে ব্যবসা শুরু করতে অনেক টাকা লাগে। নিজের জমানো ও পরিবার থেকেই টাকা নিয়ে রেজার পথচলা। বর্তমানে ১০টি দেশের নানা রকমের খাবার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। ভবিষ্যতে তিনি তার ব্যবসাকে বাংলাদেশসহ আরো অনেক দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। তার মাইনিচি মানকিতে ১২ জনের মতো লোক কাজ করে। তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা বলে মনে করা হয়। আমিও এটি মনে করতাম। কিন্তু জাপানে দেখলাম জনসংখ্যা দিন দিন কমছে। তারা অন্য দেশ থেকে নানা রকমের সুযোগ দিয়ে মানুষকে নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ যদি জনসংখ্যাকে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি দেশটার চেহারা বদলে যাবে।’
জাপানে যারা ব্যবসা করতে চান, তাদের উদ্দেশে রেজা বলেন, ‘প্রত্যেকেরই ভালো কিছু করার স্বপ্ন থাকে। ভালো কাজ করতে গেলে অবশ্যই কষ্ট হবে। সহজেই ভালো কিছুর আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু না। যেকোনো কাজ করতে গেলে বিভিন্ন সমস্যা আসবেই, আর এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। অবশ্যই সমাধানের রাস্তা বের না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকতে হবে। আর তা হলে সফলতা ধরা দেবেই।’