এদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করবে। এর জন্য আমাদের মনমানসিকতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সামাজিক, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা থেকে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুন’ শীর্ষক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে দেশব্যাপী একই দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলতে চাই সার্বজনীন দুর্গোত্সবে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভাইবোনদের সঙ্গে সকল ধর্মের মানুষ সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করবেন। কারণ ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। তিনি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের মানুষ নারী-পুরুষ সকলে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত হয়ে মানবাধিকার নিয়ে বসবাস করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা হলেও এখনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ আসন্ন দুর্গোত্সব উপলক্ষ্যে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উত্সবে নারীরা যাতে নিরাপত্তার সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য প্রশাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, এই সময় নারীরাও সহিংসতার শিকার হয়।
আরও পড়ুন: আজ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সব টিভির সম্প্রচার
ঢাকা মহানগর কমিটির আন্দোলন সম্পাদক জুয়েলা জেবুন্নেছা খান বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা প্রত্যাশা করি আসন্ন দুর্গোত্সবে সবাই একসঙ্গে উত্সব পালন করব। এদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে আমরা নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে থাকি। সাম্প্রদায়িকতার বৈষম্য দূর করে একটি মানবিকতাপূর্ণ সমাজ গঠনে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা শাখার উদ্যোগে একই দিনে একই সময়ে দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ইত্তেফাক/অনি