স্বামীর অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা মামলায় স্ত্রীর এক বছরের কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছেন আদালত। সোমবার লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদলতের ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জামান এ রায় প্রদান করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম জুয়েল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের সফি উল্যাহ ভূঁইয়ার মেয়ে আয়েশা আক্তার মিতুর সঙ্গে একই ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের সৈয়দ আহম্মদের ছেলে ওয়াহেদ আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিতু লেখা-পড়া করার ইচ্ছে করায় তাকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে ভর্তি করে দেন স্বামী ওয়াহেদ আলী। এরপর থেকে মিতুর বেপরোয়া চলাফেরা দেখে স্বামী বাঁধা নিষেধ করলেও তা মানতোনা মিতু। গত ২০১৮ সলের ৮ই মে ওয়াহেদ আলীর দেয়া স্বর্ণালংকার ও ঘরে রক্ষিত নগদ টাকা নিয়ে মিতু স্বামীর অজান্তে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিশে স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিতু স্বামীর কাছে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও তার নামে ১০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দাবি করেন। উক্ত টাকা ও জমি না দিলে মিতু তার স্বামীর কাছে আর আসবে না এবং স্বামীর সংসার করবে না বলে জানায়। এ ঘটনায় ওয়াহেদ আলী বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ১৬ই মে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৪১৫। এ মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিতুকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছর কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
আরো পড়ুন: ভারতীয় বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু
রায়ে সন্তোস প্রকাশ করে ওয়াহেদ আলী বলেন, বিয়ের পর থেকে আমি এই স্ত্রীর দ্বারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সে আমার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে আমার কাছে যৌতুক দাবি করে। আমি আদালতে তার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করি। মামলার রায়ে আদালতের মাধ্যমে আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।
ইত্তেফাক/বিএএফ