বাঙালি সংস্কৃতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যদিয়েই উন্নত ও বিকশিত হতে পারে কিন্তু পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমরা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটাতে পারিনি, পারিনি সংস্কৃতির নির্মল বায়ু সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে। তরুণদের মতে, এর ফলস্বরূপ আমাদের মহান বিজয় দিবসের তাত্পর্য হয়ে পড়ছে ফ্যাকাসে। মহান বিজয় দিবস সম্পর্কে তরুণরা কি ভাবছেন তা জানাচ্ছেন— সজীব বণিক
সোহেলী আলম
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
‘দেশটা ভাইসা আসে নাই’— বীরমাতা তারামন বিবির জীবন্ত বয়ান। স্বাধীনতা অর্জনে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবদান সবচেয়ে বেশি। অথচ ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের দামে কেনা এই বাংলায় দুর্নীতি, বুদ্ধিজীবীদের দাসত্ব মনোভাব, ধর্ষণ ও মানবিকতার চরম অবক্ষয় মুক্তিযুদ্ধের যে তিনটি অঙ্গীকার ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার, প্রশ্নবিদ্ধ করছে যা স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তরুণ প্রজন্মের সামনে বেশি বেশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে কারণ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়গাঁথা সবমসময় তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তাই তরুণ প্রজন্মের যত বেশি তার শিকড় ও সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ততা বাড়বে ততবেশি দেশ এগিয়ে যাবে।
জাহিদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কেবল বিজয় দিবসে নয় বরং বিজয়ের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে প্রত্যেক বাঙালিরই কিছু কর্তব্য রয়েছে। প্রতি ক্ষণে দেশ-জাতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করা। বাঙালির ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন তাই এর সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচারে জাতীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করাও জরুরি। যারা স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের ইতিহাস বিকৃত করে পরবর্তী প্রজন্মকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে সচেষ্ট তাদেরকেও চিহ্নিত করে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রত্যেক বাঙালির জাতীয় কর্তব্য।
রেজাউল করিম রাজু
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বিজয় দিবসের দিনটি আমাদের সবার জন্যে অত্যন্ত তাত্পর্যময়। এ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বড় সমৃদ্ধ ও আত্মত্যাগের। তবে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে বিজয় দিবসকে সীমাবদ্ধতা না রেখে কষ্টার্জিত স্বাধীনতার যথাযথ সংরক্ষণে আমাদের এই দিনে বিশেষভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা গতিশীল, প্রকৃত আদর্শকে সঠিকভাবে রক্ষা করার নিরিখে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান ও ক্ষমতা অনুসারে বাংলাদেশের বাঙালির কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের দেশ গঠনে একযোগে কাজ করতে হবে। তাতে দেশের সমৃদ্ধি ঘটবে, জাতি অনেকদূর এগিয়ে যাবে।
মুন্নি আক্তার
শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
এদেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সুখী,সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে হলে শুধু বিজয়ের মাসে আবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে নিজ কাজের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, বাক স্বাধীনতাসহ সকল প্রকার হুমকির বিরুদ্ধে সকলকে নিরাপদ থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করা এই হোক এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। তবেই এগিয়ে যাব আমরা, পথ হারাবে না নতুন প্রজন্ম।
রিফাত কান্তি সেন
শিক্ষার্থী, চাঁদপুর সরকারি কলেজ
স্বাধীনতার অর্জনের ইতিহাস শুধু দীর্ঘ নয় মাসের একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের ইতিহাস নয়। বরং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অনেক বিস্তৃত। বিজয়ের ইতিহাস কেবল ঘটনানির্ভর নয় বরং চেতনানির্ভর ও সংস্কৃতিনির্ভর। তবে বিজয়ের কয়েক যুগ পেরিয়ে আর্থ-সামাজিক, উন্নয়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে আমরা স্বাধীনতার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছালেও শিল্প-সংস্কৃতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছি। তাই এ ব্যাপারে সবার সুদৃষ্টি দিতে হবে, একযোগে কাজ করে যেতে দেশের স্বার্থে।
ইয়াসির আরাফাত
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন তরুণ প্রজন্মের মধ্যদিয়েই উন্নত ও বিকশিত হতে পারে। তরুণদের অনেকে পর্নোগ্রাফ, মাদক ও নানা ধরনের অপরাধের মধ্যে জড়িয়ে যাচ্ছে। সস্তা বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা করছে, রাতারাতি বিখ্যাত হতে চাচ্ছে। এদেরকে সঠিক পথে আনতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ সামনে তুলে ধরতে হবে।