নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই বিকল হচ্ছে ফেরি। তীব্র স্রোত, ফেরি বিকল এবং ঘাট বন্ধ থাকায় বিগত কয়েকদিন ধরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ফেরি সার্ভিসে অচলাবস্থা চলছে। দুই ঘাটে বাড়ছে যানজট। ভোগান্তিতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুই পাড়ে দীর্ঘ সারিতে ৫ শতাধিক ট্রাকসহ যাত্রীবাহী বাস ফেরি পারাপারে জন্য আটকে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে পাটুরিয়া ঘাটে যানজটের কারণে পুলিশ উথলী সংযোগ মোড় থেকে ট্রাকগুলো পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঢুকতে না দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ সাড়ি করে রাখছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পুরাতন এবং ছোট ইউটিলিটি ফেরিগুলো স্রোতের বিপরীতে চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এসব ফেরি ঘাটে ভিড়তে অনেক সময় লাগছে। পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া যেতে একটি ফেরির সময় লাগতো ৩০/৩৫ মিনিট। এখন লাগছে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-বহরে ১৬টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে ৭টি ফেরি চলাচল করছে।
এদিকে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ঘাটগুলোও লো-ওয়াটার লেবেল থেকে হাই ওয়াটার লেবেলে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। ফলে দৌলতদিয়াতে ৬টি ঘাটের মধ্যে একটি ঘাট সচল রয়েছে। বাকি ৫টি ঘাট দিয়ে ফেরি লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিকরা ইট ও বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ঘাটগুলো সচল রাখার চেষ্টা করছে।
বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণে এ রুটে আরও ফেরি বাড়ানো দরকার।
আরও পড়ুন: খিলক্ষেত থেকে শীর্ষ হুজি নেতাসহ গ্রেফতার ৩
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের উপ মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া গামী ফেরি স্রোতের কারণে ৩ কিলোমিটার ভাটিতে চলে যাচ্ছে। আবার এ তিন কিলোমিটার উজান বেয়ে দৌলতদিয়া পৌঁছাতে হচ্ছে। ফলে গাড়ি পারাপার কমে গিয়ে ঘাটে যানজট হচ্ছে। মেরামতে থাকা ফেরিগুলো বহরে যুক্ত হলে হয়তো এ সমস্যা থাকবেনা।
বিআইডব্লিউটিএর উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, ইতিমধ্যে ১ ও ২ নং ঘাটের মাঝামাঝি স্থান নদী গর্ভে চলে গেছে। দৌলতদিয়া ৬টি ঘাটের মধ্যে ৪টি ঘাট দিয়ে কোনরকম জোড়াতালি দিয়ে ফেরি লোড-আনলোড করানো হচ্ছে। ঘাটের উজানে একটি চর ওয়াশ আউট হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এবার দৌলতদিয়াতে ঘাট রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ইত্তেফাক/অনি