বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন রাবির সেই উপ-উপাচার্যের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুল আলোচিত নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ‘শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ’ সিনেট ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উপ-উপাচার্য আইন বিভাগের আলোচিত নিয়োগের জন্য প্রার্থীর আর্থিক লেনদেনের ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ বেশকিছু তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে বেলা ১১টায় সিনেট ভবনের সামনে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের অপসারণ চাই’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এতে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। সমাবেশে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরকার সুজিত কুমার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, ভূ-তত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আলী রেজা টিপু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্য বলেন, 'গত কয়েকদিন ধরে আইন বিভাগের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমার যে ফোনালাপ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে তা একটি স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক আংশিকভাবে, খণ্ডিতভাবে, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। আমি নিয়োগ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম। অথচ কুচক্রীমহল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে।'

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'যে ঘটনাসূত্রে এ ইস্যু তৈরি হয়েছে তা হলো, আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড ছিলো গত বছর ১৩ নভেম্বর। এর ৯ দিন আগে ৪ নভেম্বর আইন বিভাগের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি দুনীর্তির নথি আমার নজরে আসে। যা ইসলামী ব্যাংকে ২ লাখ টাকার একটি লেনদেনের রিসিপ্ট। সেই বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখতে পাই, ওই লেনদেনটি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শাখা থেকে রাজশাহীর আলুপট্টি শাখায় জমা হয়েছে। আমি আলোচিত নিয়োগ প্রার্থী নুরুল হুদাকে ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে সাহায্য-সহযোগিতা করে এসেছি। এ কারণে আমার সন্দেহ হয় যে, হুদার আর্থিক সামর্থ্য নেই। কিন্তু কোথা হতে সে এ টাকা লেনদেন করেছে। তিনি স্বাবলীল ভঙ্গিতে নিজের নাম ও পরিচয় দিয়ে হুদার স্ত্রীর নিকট হতে ২ লাখ টাকার উৎস জানার চেষ্টা করেন। তারা আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছিলো। কিন্তু কাকে দিয়েছিলো ওই সময় পরিপূর্ণ তথ্য দেয়নি।'

দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদে তথ্যের একাংশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের সদস্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহাজাহান মন্ডলের বক্তব্য।'

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, 'তার জামাতার নিয়োগের জন্য হুদার চাকরি হয়নি; তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আইন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড ছিল ১৩ নভেম্বর, সিন্ডিকেট হয়েছে ১৭ নভেম্বর, যোগদান হয়েছে ১৮ নভেম্বর ২০১৮। কিন্তু আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে ২৪ এপ্রিল ২০১৯।'

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখের নীলফামারী সৈয়দপুর শাখার ‘ডিসেন্ট ট্রেডার্স’ রাজশাহীর অনুকূলে দু লাখ টাকার একটি জমা রিসিপ্ট, ডিসেন্ট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীর নাম মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, ছবি ও সহি-স্বাক্ষরসহ লিগ্যাল ব্যাংক ডকুমেন্ট উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, ছবিটি আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানের বলে প্রতীয়মান হয়। সুতরাং কথিত নিয়োগ বাণিজ্যে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং তিনি নিয়োগ-বাণিজ্য উদঘাটন ও প্রতিরোধে সদা সচেষ্ট থেকেছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি আর্থিক লেনদেনে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে মুখোশ উন্মোচন ও সত্য প্রকাশের দাবি জানান।

আরও পড়ুন: আখাউড়ায় শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় যুবক গ্রেফতার

এদিকে উপ-উপাচার্যের উপস্থাপিত তারিখে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান। তবে তিনি দাবি করেন, ‘ব্যবসায়ীক কারণে গত বছরের ৪ নভেম্বর নিয়োগ প্রত্যাশী নুরুল হুদার মাধ্যমে তিনি (যৌথ হিসাব) ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পরেই তারা ওই টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফেরতও দিয়েছেন। তিনিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

ইত্তেফাক/নূহু