আছি সেই অপেক্ষায়

অনন্ত নক্ষত্রবীথি অতিক্রম করে

আমি পৌঁছে গেলাম আরেক গন্তব্যের সিংহদরজায়

একটু একটু করে এগুচ্ছি পথের মায়ায় ডুব দিয়ে

অবগাহনের আনন্দে ভর করে যতই সম্মুখে এগিয়ে যাই

ততই খুলে যায় দরজার পর দরজা

 

আর কত দরজা পার হবো, আর কত সীমানা পাড়ি দেবো—

এমন ভাবনার আগে আমার পথ আগলে দাঁড়ালো বিশ্বাস

বিস্তৃত মনকে অধ্যয়ন করে

এক বুক সাহস এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমার সামনে

আমি সমানতালে হাঁটছি আমার নিজের সাথে, কখনো দৌড়ুচ্ছি

                                              কখনো জোরকদম

 

আমাদের সম্মুখে এখন আর কোনো বাধাই দাঁড়াতে পারছে না,

একনিষ্ঠ-একাগ্র জীবন-চলার পথ নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হতে হতে

এমন এক শক্তি অর্জন করেছে—তার তুল্যমূল্য যার হাতে

তার কোনো সীমা নেই—পরিসীমা নেই

 

আরেকটু এগিয়ে গিয়ে দেখি—খুলে গেছে আসল দরজা

পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি নিজেকে—এতদিন কোথায় ছিলাম!

এই প্রশ্ন তীরের ফলার মতো বিদ্ধ করার আগে

সমীহের এক বার্তা নিয়ে অতি মোলায়েম হাত রাখে আমার হাতে

হাতের ইশারায় আমি বুঝে ফেলেছি ক্ষমার যোগ্য হতে হলে

এছাড়া আর কোনো পথ নেই—অন্য কোনো দরজা নেই

 

সব কর্ম—জীবনের ভুল-শুদ্ধ সব ব্যস্ততা একত্রিত করে

করজোড়ে হাঁটু গেড়ে বসে আছি—নতজানু আমার সব বোধ-বুদ্ধি-মেধা

আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করে তাকিয়ে আছে অপেক্ষমাণ নিজের দিকে

 

অনুগ্রহের সূক্ষ্ম আলোর একটি রেখা ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত হচ্ছে...

আমি অনুভব করছি আমার ভেতর জগতের ওলট-পালট,

স্থির নিশ্চিত চলে এসেছি তার সামনে

ক্ষমার যোগ্য যদি হই—আছি সেই অপেক্ষায়।