গাংনীতে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে রাব্বি (২১) নামের এক তরুণ। রাব্বিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করেছে পুলিশ। রাব্বি স্থানীয় ডিস লাইন ব্যবসায়ী। সে কাজীপুর বর্ডার পাড়ার রেজাউল হকের ছেলে।
স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অজয় কুমার গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার সময় তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। শুক্রবার সকালে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমানের নির্দেশে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গাংনীর সীমান্তবর্তী কাজীপুর ডিগ্রী কলেজের নতুন ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনে কলেজ চলছিলো। দুপুর সাড়ে ১২টার সময় কলেজের কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রীকে জোরপূর্বক ৪র্থ তলার ওপরের সিঁড়িতে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকে সহায়তাকারী কাজীপুরের সাজ্জাদ, ঘরামী পাড়ার মন্টুর ছেলে স্ঈাদ , ফরিদের ছেলে ফারুক ও হোসেন সিঁড়ির গেটে পাহারাদার হিসাবে অপেক্ষা করছিলো। উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রীটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করার।
এ সময় শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রীর বান্ধবী ঝর্ণা অবস্থা বেগতিক দেখে তার ক্লাসের বন্ধু রুবেলকে বিষয়টি জানায়। রুবেল তার বান্ধবীকে উদ্ধারের জন্য পার্শ্ববর্তী তাইয়ূম আলীর সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে বখাটের দল পালিয়ে যায়।
এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ মোকাদ্দেসুর রহমানের অবর্তমানে ভাইস প্রিন্সিপাল রফিকুজ্জামান প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। কলেজে প্রকাশ্যে এরকম ঘটনায় অভিভাবকগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে গাংনী থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছে। কলেজ ছাত্রীর ভাই সাহেবনগর ফিল্ড পাড়া গ্রামের ইসতিয়াক আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। স্থানীয় পীরতলা পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই অজয় কুমার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে যান এবং ঘটনার সত্যতা পান। রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করে।
আরও পড়ুন: ‘ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর’ নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার
এ ব্যাপারে গাংনী থানা ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান জানান, কলেজ ছাত্রী উত্যক্তকারী রাব্বিকে আটক করা হয়েছে॥ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনের ১০(৩০) ধারায় মামলা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ইত্তেফাক/নূহু