বকেয়া ৩৪ কোটি টাকা, বিদ্যুতের দাবিতে জেনেভা ক্যাম্পে সংঘর্ষ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পে বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সংঘর্ষের পর সেখান থেকে পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে। শনিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিক্ষোভ শুরু করে জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দারা। এসময় পুলিশ তাদের ঠেকাতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। লাঠিচার্জ ও কয়েকদফা টিয়ার গ্যাস ছুড়েও পুলিশ বিক্ষোভ থামাতে পারেনি। একপর্যায়ে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের পেছনের সড়কেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে উল্টে দিয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা চালায়। 

পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ১৫ সদস্য আহত হয়েছেন। আর ক্যাম্পবাসীরা বলছেন, তাদের অর্ধশত বাসিন্দা আহত হয়েছে।


পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে উল্টে দেওয়া হয়। ছবি: আব্দুল গনি

ক্যাম্পবাসীরা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা করে তাদের বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়। বাংলাদেশে যত স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) ক্যাম্প রয়েছে, এর মধ্যে এখানেই বিদ্যুৎ নিয়ে ঝামেলা চলছে। এখানকার বিদ্যুৎ বিল দেয় জাতিসংঘ।

আরো পড়ুন: ফেনী নদীর পানি যাবে ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে

তবে জেনেভা ক্যাম্পের এক বাসিন্দা বলেন, এতদিন ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল ত্রাণ মন্ত্রণালয় দিত। ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আর দেবে না। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। 

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ২০১৮ সাল থেকে ক্যাম্পবাসীদের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কথা বলেছে ডিপিডিসি। কিন্তু তারা বিল দেয়নি। ক্যাম্পের প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ অনিয়মিত ছিল। 

আনিসুর রহমান আরো জানান, বিক্ষোভের সময় বিষয়টি সুরাহার জন্য জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দারা ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানের সঙ্গে কথা বলতে যায়। একপর্যায়ে তারা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করে। এর ফলে তিনি আহত হন। এ সময় তারা পুলিশের উপরও হামলা করে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ