ফাতিন ইসরাক (আবির)
সেদিন চা খেতে গিয়ে অয়নদার সঙ্গে দেখা। অয়নদা আমাদের সকলের প্রিয় বড় ভাই। এবারে মাস্টার্স পাস করেছে। চাকরির জন্য খুব দৌড়ের উপরে আছে। প্রতিদিন পত্রিকা খুলে চাকরির খোঁজখবর নেয়। আজ এটা তো কাল ওটা। এভাবে পরীক্ষা দিয়েই তার দিন কেটে যায়।
আমাকে দেখে বলল, ‘খুব টেনশনে আছি ভাই।’
‘কিসের টেনশন?’
‘আর বলিস না, যেখানেই যাই শুধু এক্সপেরিয়েন্স চায়! আমি কি পড়াশোনার আগেই এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে বসে থাকব বল তো?’
‘ভাই চিন্তা কর না। হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
সেদিন একটু তাড়া থাকায় অয়নদার সঙ্গে আর কথা হয়নি। মাঝে কেটে গেছে সাত দিন। কলেজে পরীক্ষা থাকায় সেভাবে খোঁজখবরও রাখতে পারিনি। আজ সকালে উঠে পত্রিকা খুলে আজকের খবরগুলো পড়ছি। এসময় একটা বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ল, পাত্রী চাই। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, বিজ্ঞপ্তিটি আর কেউ নয়, দিয়েছে আমাদের প্রিয় অয়ন দা। সবকিছুই ঠিক আছে, কিন্তু পাত্রীর ৩ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক! দ্রুত অয়নদাকে কল দিলাম। কল ধরেই অয়নদা আনন্দিত হয়ে বলল, ‘আমার তো চাকরি হয়ে গেছে। বিকালে দেখা করিস, ট্রিট দেব।’
‘ভাই, সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু পত্রিকায় পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞপ্তি কি তুমি দিয়েছ?’
‘হ্যাঁরে! ভালো হয়নি?’
‘সব ঠিক আছে। কিন্তু পাত্রীর এক্সপেরিয়েন্স কেন দরকার?’
‘সবকিছুতেই এক্সপেরিয়েন্স দরকার হলে বিয়েতে কেন নয়?’
ভাইয়ের কথা শুনে আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম।
রংপুর