অঘোষিত পাঁচ ভয়ংকর প্রাণী

 

যাদের নাম শুনলে কেঁপে উঠে বুক, চোখ উঠে যায় কপালে! ভয়ে কখনো গলা শুকিয়ে যায় আবার কখনো আরামের ঘুম হয়ে যায় হারাম। সেই  ভয়ংকর প্রাণীগুলোর ইতিবিত্তান্ত নিয়ে গবেষণা করে জানাচ্ছেন ঠাট্টারু হেলাল নিরব

 

মশা :অতি ভয়ানক এই প্রাণী নিয়ে মশকরা করা একদমই অনুচিত। গবেষণা বলছে (অঘোষিত), আপনার জীবদ্দশায় কোনো না কোনো সময় আপনি এই প্রাণীর ওপর বিরক্ত থেকে মহাবিরক্ত হয়ে থাকবেন। এর কামড় খায় নাই বা আক্রমণের শিকার হয় নাই, তেমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এরা এমন এক প্রাণী, যারা আপনার হাতের থাপ্পড়ে আপনাকেই মারবে। একমাত্র এদের ভয়েই মানুষ বাক্সবন্দি (মশারি) হয়। এদের নির্মূল করতে কোটি টাকা বাজেট হয়। এদের জন্য দেশে জরুরি অবস্থাও জারি হয়। তবে মানবজাতি এদের সংগীতেই (প্যান প্যানানি) সবচেয়ে বেশি ভয় পায়!

 

তেলাপোকা :মেয়েদের আতঙ্কের আরেক নাম এই প্রাণীটি। বাংলা মুভির মাস্তানকে চড় মারতে যে নায়িকার হাত একটুও কাঁপে না, সেই নায়িকাও তেলাপোকা দেখে ভয়ে নায়কের বুকে মুখ লুকায়। এই নিরীহ অথচ ভয়ংকর প্রাণীটির জন্যই বুঝি পৃথিবীতে ঢাকনা আবিষ্কার হয়েছে। আর এর ভয়ে শুধু নায়িকা বা মেয়েরা না পুরো মানবজাতি তটস্থ থাকে। এদের অপকর্মের খবর জানতে, বেশিদূর না, আপনার মা বা ঘরওয়ালিকে প্রশ্ন করলেই জানতে পারবেন। তাই এদের সঙ্গে লাগতে যাবেন না।

 

ইঁদুর :হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পটা সবার জানা নিশ্চয়ই! পুরো একটা জাতিকে কিভাবে এরা অতিষ্ঠ করতে পারে তা নজিরবিহীন। গবেষণায় উঠে এসেছে, এদের ভয়েই মানুষ ব্যাগ, সুটকেস, বাক্স, ট্রাঙ্ক বা আলমারি জাতীয় জিনিস আবিষ্কার করেছে। এরা এতটাই ভয়ংকর যে এদেরকে প্রতিহত করতে পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানা আবিষ্কার হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়েছে কিঞ্চিত্! মজার তথ্য হলো, এরা বুঝতে পারে কোনটা আপনার দরকারি কাগজ, পছন্দের খাবার বা পছন্দের পোশাক; আর এ কারণেই ঘুরেফিরে আপনার ওই জিনিসটা নষ্ট করতে এরা বদ্ধপরিকর। তাই এদের থেকে সাবধান!

 

পিঁপড়া :বলা হয়, ডাইনোসর যুগের থেকে এখনো অব্দি বংশরক্ষা করে টিকে আছে শুধু এই প্রাণীটিই। আর এতেই বোঝা যায়ম এরা কতটা ভয়ংকর! এরা দল বেঁধে আক্রমণ করে। মানুষের মতো এরাও ভল্ট বানিয়ে অবৈধভাবে খাবার জমা করে রাখে। পরিমাণে এতটা খাবার যা তাদের তিন পুরুষ খেতে পারবে। এরা হাতিকেও হারাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এদের দাপটের কাছে মানুষ একেবারে পুঁচকে! বিশতলা বিল্ডিংয়ের উপরেও খাবার রাখলে এদের থেকে পার পাবেন না। পৃথিবীতে এরাই বুঝি সংখ্যাঘরিষ্ঠ তাই এদের সঙ্গে লাগতে না যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

 

ছারপোকা :ব্যাচেলরদের কাছে গার্লফ্রেন্ডের থেকেও বড় ত্রাস এই অতি ভয়ানক প্রাণীটি। মশার পরে মানবজাতির ওপর বেশি প্রভাব খাটায় এরাই! এদের সঙ্গে সহাবস্থান কোনো পাগলও চাইবে না। এরা খুব চতুর! বন্ধুদের দেওয়া ধারের টাকা ফেরত পাওয়া আর এদেরকে বিছানা থেকে নির্মূল করা দুটোই অসম্ভব। গবেষণা বলছে, এরা কচুরিপানার মতো প্রেম করে বেশি! তাই এদের সংখ্যা এতটাই ভয়ংকরভাবে বাড়ে, যা অকল্পনীয়। এদের থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়, বিছানা বা খাটকেই ধ্বংস করে দেওয়া। গবেষণায় জানা যায়,  প্রত্যেকটা ব্যাচেলরই জীবনের কোনো না কোনোদিন এর কবলে পড়েছে। আর সব রমণীই এই প্রাণীটির থেকে তার পরিবারকে বাঁচাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ!

ঠিকানাবিহীন