আন্তর্জাতিক কারুশিল্প উত্সবে বাংলাদেশের রফিকুল

হুসাইন রবিউল

 

উজবেকিস্তানের কোকান্ড শহরের খুদইওরখোন উর্দাসী স্কয়ারে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক কারুশিল্প উত্সব। ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে এবারই প্রথমবারের মতো উজবেকিস্তান সরকার এ আন্তর্জাতিক কারুশিল্প উত্সবের আয়োজন করেছিলেন। এ উত্সবে বিশ্বের ৭৮টি দেশের ১৯১ জন কারুশিল্পী অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। বাংলাদেশের একমাত্র কারুশিল্পী প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক এ কারুশিল্প উত্সবে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তরুণ কাঠ খোদাই কারুশিল্পী রফিকুল ইসলাম। বিদেশি কারুশিল্পী ছাড়াও উজবেকিস্তানের ১ হাজার ১শ’ কারুশিল্পী এ উত্সবে অংশ নেন। উজবেকিস্তানের ৬ জনসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের মোট ৩৪ জন কারুশিল্প বিশেষজ্ঞ এ উত্সবে যোগ দেন।

উজবেকিস্তান হেন্ডিক্রাফটস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কারুশিল্পীদের তালিকা আহ্বান করেছিল। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন কাজে দক্ষ বেশ কয়েকজন কারুশিল্পীর নামের তালিকা পাঠানো হয় উজবেকিস্তানে। সেখান থেকে বাংলাদেশের তরুণ কাঠ খোদাই কারুশিল্পী রফিকুলকে বাছাই করেন তারা।

উজবেকিস্তান সরকার এবারই প্রথম এ ধরনের উত্সবের আয়োজন করেছেন। এখন থেকে প্রতি ২ বছর পরপর উজবেকিস্তানে আন্তর্জাতিক এ উত্সব অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের সকল কারুশিল্পীকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসাই এ উত্সবের মূল উদ্দেশ্য।

উত্সবে কারুশিল্পীদের জন্য ২০টিরও বেশি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি কারুশিল্পীরা সেখানে তাদের কারুপণ্য তৈরি, প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগও পেয়েছেন।

উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিওয়েভ এ উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উজবেকিস্তানের কোকান্ড শহরে আয়োজিত এ উত্সবকে ঘিরে ছিল বর্ণিল সব আয়োজন। চোখ ধাঁধানো আতশবাজি আর রঙ-বেরঙয়ের আলোকসজ্জা পুরো কোকান্ড শহরকে করেছিল আলোকিত। উজবেকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গানে মেতে ওঠে পুরো উত্সব। প্রথমবারের মতো এ আয়োজনে বিশ্বের নানাপ্রান্তের কারুশিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো কোকান্ড।

উজবেকিস্তানের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী উজবেক তরুণীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী রুটি, সন্দেশ ও ফুল দিয়ে বিশ্বের ৭৮টি দেশের ১৯১ জন কারুশিল্পকে স্বাগত জানান।

ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট ড. গাদা হিজাউয়ি কাদুমি রফিকুলের শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হন এবং ভূয়সি প্রশংসা করেন। উত্সবে অংশগ্রহণকারী হিসেবে উত্সব কর্তৃপক্ষ একটি সনদপত্র প্রদান করে রফিকুলকে। রফিকুলের কাঠ খোদাই শিল্প উজবেকিস্তানের স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। তারা এ শিল্পকর্ম সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশি স্টলের সামনে ভিড় জমান এবং বাংলাদেশি কাঠ খোদাই শিল্প দেখে মুগ্ধ হন।

উজবেকিস্তানে দায়িত্বরত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান এন ডি সি উত্সব প্রাঙ্গণে এসে রফিকুলকে উত্সাহিত করেন।

উজবেকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শনের সুযোগও ছিল বিদেশি কারুশিল্পীদের জন্য। কাঠ খোদাই কারুশিল্পী রফিকুল ইসলাম এর আগে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কারুশিল্প সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নিয়েছিলেন।