তাজা ও রান্না ইলিশের রকমারি পসরা

শফিকুল ইসলাম খোকন

 

মাছের রাজা ইলিশ, আকার আকৃতি, বর্ণ ও স্বাদে অতুলনীয় এই ইলিশ বাঙালির রন্ধনশিল্পে এক আভিজাত্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বাংলাদেশের ইলিশকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পরিচিতি লাভ এবং বরগুনাকে ইলিশের জেলায় পরিণত করতে এই প্রথমবারের মতো রঙে-ঢঙে বরগুনায় ইলিশের উত্সব পালন করা হলো। গত ২ অক্টোবর বরগুনা সার্কিট হাউজ মাঠে এ উত্সব দিনব্যাপী এ উত্সবে ৩০টি স্টলে ইলিশের বিভিন্ন ধরনের রেসিপি বিক্রিসহ ইলিশের নানা ধরনের ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। 

বরগুনা জেলা প্রশাসন ও বরগুনা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে এই ইলিশ উত্সব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরগুনার ইলিশকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলতে ও ইলিশের ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত বরগুনায় দেশি-বিদেশি পর্যটককে ইকোট্যুরিজমে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি মত্স্যখাতের উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ও জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষে এ উত্সব আয়োজন করা হয়। বরগুনা সার্কিক হাউজে মাঠে বরগুনা সদরসহ উত্সবে জেলার ৬টি উপজেলা থেকে ৩০টির স্টল শোভা পায়। দেশের বৃহত্তম মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা থেকে আসা পাথরঘাটা প্যাভিলিয়নে তাজা ইলিশের পসরা বসানো হয়। বলেশ্বর, বিষখালী আর সুমদ্রের তাজা ইলিশ কিনতেও ভিড় জমে। স্বল্প মূল্যে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় যারা সবসময় কিনতে পারেন না তারাও এ মেলা থেকে ইলিশ কিনতে হাজির হন। স্টলগুলোতে রান্না ইলিশের শতাধিক রকমের বাহারি খাবার প্রদর্শিত হয়। স্বল্প মূল্যে বিক্রি হয় পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীসহ বঙ্গোপসাগরের সুস্বাদু তাজা ইলিশ। আবার অনেকে ইলিশ কেননার মতো টাকা না থাকলেও তাজা ইলিশ দেখতে ভিড় করেন। তাছাড়া উত্সবের মাঠে ইলিশের নানারকম প্ল্যাকার্ড, দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং উপজেলা থেকে আগত কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়।

বরগুনার পাথরঘাটায় রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মত্স্য পাইকারি ও বাজার কেন্দ্র বিএফডিসি। বরগুনার প্রধান ৩টি নদী পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর ও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রতিবছর ইলিশ আহরণ হয়ে থাকে প্রায় ১ লাখ মেট্রিকটন। তাই উপকূলীয় জেলা বরগুনায় একটি ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র ও ইলিশ মিউজিয়াম স্থাপনের দাবি উত্থাপন, মত্স্যজীবীদের সঙ্গে সর্বস্তরের জনগণের মেলবন্ধন, মাছ ধরার নৌকাসমূহকে আধুনিকায়ন, ইলিশ নামানোর ঘাটগুলোতে আরো আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সংযোজন—এসব লক্ষ্য সামনে রেখে বরগুনায় আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এ ইলিশ উত্সব।  ইলিশ উত্সবে প্রায় ৫০ মণ তাজা ইলিশ প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি স্বল্প মূল্যে সুসাধু এ মাছ বিক্রি করা হয়। এতে দাম কম থাকায় ক্রেতাদেরও ভিড় লক্ষ্য করার মতো ছিল। এখানে উত্সব কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মূল্যে মাছ বিক্রি করা হয়। তাছাড়া প্রতিটি স্টলে ইলিশের রকমারি রেসিপি বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে আনারস ইলিশ, ইলিশ পিঠা, কাসুন্দি ইলিশ, ইলিশ কাবাব, ইলিশ কারি, টক-ঝাল-মিষ্টি ইলিশ, ইলিশের ডিম ছরছরা, ইলিশের রসগোল্লা, ভাপা ইলিশ, ইলিশের ভরা, ইলিশ ভর্তা, সাদা ইলিশ, শর্ষে ইলিশ, বেগুন ইলিশ, পাতা ইলিসহ অর্ধশত প্রকারের ইলিশের রেসিপি শোভা পায়। এর মধ্যে মাটিয়াল স্টলে ৩৫ রকমের ইলিশের রেসিপি প্রদর্শন করা হয়।  বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘বরগুনার ইলিশকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলতে ও ইলিশের ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত বরগুনায় দেশি-বিদেশি পর্যটককে ইকোট্যুরিজমে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ও জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ উত্সব আয়োজন করা হয়।’