খাদিজা আক্তার মুন্নী
ছোটোবেলা থেকেই ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার ইচ্ছে ছিল জেসমিন মনজুরের। সংসারের বড়ো মেয়ে হলেও তেমন কোনো বাধায় ছুঁতে পারেনি তাকে। অক্লান্ত পরিশ্রম এবং পরিবারের উত্সাহ-ই তাকে পৌঁছে দিয়েছে তার স্বপ্নের চূড়ায়।
দুই ভাইয়ের বড়ো বোন ডা. জেসমিন মনজুরের বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। রংপুর জেলার শহরেই তার জন্ম। পড়াশোনার শুরু রংপুর গার্লস স্কুলে পরবর্তীতে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেই পা রাখেন তার স্বপ্ন পূরণের প্রচেষ্টায়। সুযোগ পেয়ে যান রংপুর মেডিক্যাল কলেজে। সেখান থেকে এমবিবিএস পাশ করেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে লেকচারাল হিসেবে যোগ দেন। স্বামী জাহাজের ক্যাপ্টেন হওয়াতে সংসারে তেমন সময় দিতে পারেননি। তাই দুই সন্তান এবং পরিবারের দেখাশোনা একাই করতে হতো তাকে। তার কাছে অবসর মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় দেওয়া।
ঘর গুছাতে বেশ পছন্দ করেন তিনি, এছাড়াও ঘুরতে যাওয়া, গান শোনা এবং গল্প করাও তার শখ। তার প্রিয় রং লাল। নিজের পেশাকে ভীষণ ভালোবাসেন বলে একাদার কাজে লেগে থাকাকে বেশ উপভোগ করেন তিনি। ভালো সেবা পেয়ে যখন রোগীদের হাসি মাখা মুখ তিনি দেখেন সেটায় তার কর্মজীবনের সার্থকতা বলে জানান তিনি।
নিজেকে আরো উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন বলে মনে হওয়াতেই দুই সন্তানের ভার মায়ের ওপর দিয়ে ডিপ্লোমা করতে চলে যান আমেরিকাতে। সেখানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস কলেজ অব মেডিসিন থেকে ড্রামাটোলজিকেল সাইন্সে ডিপ্লোমা করেন। এরপর বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ম্যাগাজিন থেকে দুই বছরের মাস্টার্স শেষ করে আমেরিকা এম্বেসিয়ান লাইসেন্স ইন বোর্ড পাশ করেন। একই সঙ্গে বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যাডভান্স ড্রামাটোলজি ফেলোশিপ করেন।
পড়াশোনা শেষ করে তিনি চিন্তা করেন দেশে ফিরে দেশের মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। দেশে ফিরেন ২০০০ সালে, এসেই তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যালে তার কর্মযাত্রা শুরু করেন এবং ২০০৫ সালে তিনি এ্যাপোলো হাসপাতালে ডিপার্টমেন্ট অব ড্রামাটোলজি অ্যান্ড লেজার সেন্টারে সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং কো-অরডিনেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সেখানেই বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
তার কাছে চ্যালেঞ্জ মানেই হচ্ছে সময়ের সঙ্গে নিজেকে গতিশীল রাখা। সর্বদা চেষ্টা করেন রোগীদের সব থেকে ভালো সেবাটি দেওয়ার এবং কাজের ক্ষেত্রের নানান জটিলতায় টিকে থাকা। কাজের জায়গাকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়াই তার স্বপ্ন এবং সেই পথেই অবিরাম হাঁটছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কোনো কঠিনই কঠিন নই। একজন নারী হিসেবে আমি আমার স্বপ্ন পূরণে কোনো বাধায় পড়িনি। এই জন্য আমি নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান বলে মনে করি। কিন্তু এই পর্যন্ত আসতে আমাকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। আমি আমার পড়াশোনার জন্য আমার সন্তানদের সময় দিতে পারিনি। আমি মনে করি, যেসব নারী বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তাদের সবসময় নিজের পায়ে দাঁড়ানো উচিত। কারো ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। আমাদের সমাজে পুরুষদের ওপরে উঠা যতটা সহজ নারীদের জন্য সেটা নয়। তবে ইচ্ছে থাকলে কোনো বাধায় বাধা নয়। বর্তমান যুগ অনেক এগিয়ে গেছে, এখন নারীরাও অনেক কিছু পারে। তাই নারীদের সবার আগে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।