সবুজ শিল্পের লক্ষ্যে জিপিএইচের নতুন উদ্যোগ

>> সালাহউদ্দিন মো. রেজা

    চট্টগ্রাম অফিস

 

শু

 

ধু উন্নয়ন হলে হবে না। তা হতে হবে টেকসই উন্নয়ন। শিল্পের বিকাশ করলে হবে না। তা হতে হবে পরিবেশবান্ধব। পরিবেশকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের মহাসড়কের সহযাত্রী হিসেবে সবুজ শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্ন যে কজন দেখেছিলেন তাদের একজন হলেন আলমাস শিমুল। জিপিএইচ গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লৌহজাত শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে জিপিএইচ গ্রুপ। তারই অন্যতম উদ্যোক্তা আলমাস শিমুল জানান, তাদের বর্তমান জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার উত্পাদন ক্ষমতা ১ লক্ষ ৬০ হাজার টন বছরে। গত কয়েক বছর ধরে দেশের অবকাঠামো খাতে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে, তার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সেই অপেক্ষাকৃত পুরনো ধাঁচের ইস্পাত কারখানা দিয়ে চলবে না। দেশের পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, টানেল, অসংখ্য ফ্লাইওভার যেমন এখন স্বপ্ন নয়; একইভাবে স্বল্প আয়তনের এদেশে বিশাল জনগোষ্ঠীর বাস উপযোগী উন্নত অবকাঠামোসহ ঊর্ধ্বমুখী ইমারত নির্মাণের বিকল্প নেই। যা এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তা অনুধাবন করেছে জিপিএইচ গ্রুপ। সে চিন্তা থেকে দেশে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তির আধুনিক ইস্পাত কারখানার মাধ্যমে উন্নতমানের লৌহজাত সামগ্রীর উত্পাদনের স্বপ্ন দেখেছে জিপিএইচ গ্রুপ। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাই বিশাল বিনিয়োগ, দূরদর্শী চিন্তা ও একাগ্রতা থাকলে তাও অসম্ভব নয়। শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগী ভূমিকার কারণে দেশি-বিদেশি প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সর্বাধুনিক ইন্টিগ্রেটেড ইস্পাত কারখানা নির্মাণে সক্ষম হয়েছে জিপিএইচ গ্রুপ।

ইলেকট্রিক আর্ক-ফার্নেস (ইএএফ) কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ১ হাজার ৫০০ একর জমির ওপর নির্মিত ইস্পাত কারখানাটি শিল্প খাতে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব গ্রিন প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে বলে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল তার বর্ণনায় উল্লেখ করেন। গ্রিন প্রকল্প হিসেবে অত্যাধুনিক পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থাসহ পানির পুনঃ পুনঃ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া বায়ুতে কার্বন নিঃসরণমাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে কম হবে। এক হাজার লিটার বাতাসে মাত্র ১০ মিলিগ্রাম কার্বন নিঃসরণ হবে। অথচ এক্ষেত্রে সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ৫০ মিলিগ্রাম।

ইস্পাত তৈরির কাঁচামালসহ এর সঙ্গে ব্যবহূত কেমিক্যালসহ অন্যান্য সামগ্রী অটো পদ্ধতিতে মিশ্রিত হয়ে পণ্য উত্পাদন হবে। ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা এখানে প্রতিফলন হবে না। ফলে পণ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো হেরফের হবে না। আলমাস শিমুল জানান, বর্তমান প্রচলিত ইস্পাত উত্পাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়ে এর জ্বালানি খরচ তথা বিদ্যুত্ ও গ্যাস খরচ অত্যন্ত কম হবে। তবে পণ্য উত্পাদনে কাঁচামালের পর্যাপ্ত পরিশোধনের কারণে বর্জ্য বেশি বের হবে। এতে ব্যবহূত ইএএফ কোয়ান্টাম পদ্ধতির ফলে উক্ত কারখানায় ৮ থেকে ৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত যেকোনো সাইজের লৌহ সামগ্রী উত্পাদন করা যাবে। যা প্রচলিত কারখানাসমূহের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

জিপিএইচ গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল জানান, ইস্পাত শিল্পের ক্ষেত্রে শুধু অত্যাধুনিক কারখানা প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য নয়। এখানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের গবেষণার জন্য উন্নতমানের রিচার্স সেন্টার ও ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষে সদ্য পাস করা ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার মাধ্যমে। শীঘ্রই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি জানান।