গণবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক দিবসের ভাবনা

 

 

প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিবসটি শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য পালন করা হয়। এবারের শিক্ষক দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল: ‘শিক্ষার অধিকার মানে হচ্ছে উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়ার অধিকার’। শিক্ষক দিবসে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের গল্প জানাচ্ছেন—

ফায়জুন সিতু

ড. মো. নাহিদুল ইসলাম

সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগ

ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করার তীব্র ইচ্ছা ছিল, আর এই চিন্তা থেকেই আমার শিক্ষকতা পেশায় আসা। শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মধ্যে দেশ, জাতির কল্যাণার্থে নিজেকে নিয়োজিত করা যায়। এ পেশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এ পেশায় জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি জ্ঞানের আলো চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। একজন শিক্ষক হবেন তার ছাত্রদের অভিভাবক, ছাত্র-শিক্ষকের মাঝে শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্ক কাম্য। একজন শিক্ষক তার চিন্তা-চেতনায় সর্বদা শুভবোধ লালন করবেন।

 

ড. কৃষ্ণ ভদ্রা

বাংলা বিভাগ

১৯৯৯ সালে আমি বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ পিএইচডি হোল্ডার ছিলাম। স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশে একটি বিস্তৃত গবেষণা রাজ্য তৈরি করব। একজন গবেষক মাত্রই চাওয়া থাকে, তার জ্ঞান, চিন্তা, গবেষণার সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে। সেই চাওয়া থেকেই শিক্ষকতা পেশাটি বেছে নিয়েছি। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক মধুর হওয়া উচিত। আমি আমার ছাত্রদের সন্তানের মতো স্নেহ করি। আমি চাই আমার সন্তানেরা যেমন কাজে, কর্মে উন্নত হবে, তেমনি তারা হবে উন্নত মানসিকতার অধিকারী। আমি মনে করি ছাত্র-শিক্ষকের মাঝে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হওয়াটা জরুরি। তার পাশাপাশি একজন শিক্ষক হবেন ভালো কাউন্সিলর।

 

রূপক চন্দ্র রায়

ফ্যাকাল্টি, ফিজিওথেরাপি

আমার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি দাদুর কাছ থেকে। এরপর যত সময় পেরিয়ে গেলো নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। চারপাশ থেকেই যেভাবে পারছি প্রতিনিয়ত শিখছি। সেই হিসেবে প্রকৃতি থেকে শুরু করে, পৃথিবীর প্রতিটি উপাদানই আমার শিক্ষক। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক হেলথ বিষয়ে মাস্টার্স করার সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাহবুব রহমান স্যারের ক্লাস আমাকে মুগ্ধ করত। তিনি ছাত্রদের খুব যত্ন করে পড়াতেন। তাকে দেখেই ইচ্ছে জন্মালো শিক্ষক হব। আমার মতে ভালো শিক্ষক হতে হলে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দরকার। ছাত্রদের গবেষণাধর্মী পড়াশোনা দরকার। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ।

 

মাহবুবুর রহমান

লেকচারার, আইন বিভাগ

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞান আহরণের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষকতা। সারাবিশ্বে শিক্ষকতার সঙ্গে যারা জড়িত থাকেন তাদের যে পরিমাণ সোশ্যাল সিকিউরিটি, সামাজিক মর্যাদা এবং পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয় সেই তুলনায় আমাদের দেশ অনেকটাই পিছিয়ে আছে বলে আমার মনে হয়। শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে না। তাই এই সমস্যাটির নিরসনেও একটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হবে প্রাণের সম্পর্ক। একজন শিক্ষক তার ছাত্রের বাবা, বন্ধু, শিক্ষাদাতা। সেই হিসেবে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হবে হূদ্যতার সম্পর্ক ।

 

তানিয়া আহমেদ তন্বী

ফ্যাকাল্টি, ফার্মেসি বিভাগ

আমি এতদিন পর্যন্ত যা জেনে এসেছি, শিখে এসেছি তা সবার মাঝে কিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় সেই চিন্তা থেকেই শিক্ষকতা পেশায় আসা। একজন শিক্ষক তখনি একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে ওঠেন যখন তিনি তার ছাত্রের সঙ্গে পৃথিবীর সব সম্পর্কের সমষ্টিগত একটি দারুণ সেতু গড়ে তুলতে পারেন। তাছাড়া ছাত্র-শিক্ষকের মাঝে একটি মায়ার সম্পর্ক দরকার, শিক্ষক হবেন তার ছাত্রদের পথপ্রদর্শক। একজন আদর্শ শিক্ষকের মাঝে সততা থাকবে, তার চোখে সবাই সমান থাকবে।