সফল জুটির গল্প

ভালো মানের নাটক নির্মাণের জন্য মানানসই জুটির বিষয়টা জরুরি। মানানসই জুটি হলে একে অপরের সঙ্গে অভিনয়টাও অনেক সুন্দর লাগে। হালে দর্শকের কাছে ‘সজল-মম’ জুটির অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এই জুটির অভিনয়ের গল্প শোনাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম

টিভিতে নাটক কিংবা টেলিফিল্ম প্রচারিত হলে মুঠোফোনে আর ফেসবুকে দর্শক-ভক্তদের কাছ থেকে যে সাড়া পান, তার প্রত্যুত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন লাক্সতারকা মম। কারণ তার এমন ভক্ত-দর্শকদের জন্যই তিনি আজকের মমতে পরিণত হয়েছেন। তার সেসব ভক্ত-দর্শক তার অভিনয়কে ভীষণ ভালোবাসেন বলেই তারা মমকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশংসা বাক্য লিখে এসএমএস করেন কিংবা ফেসবুকে কমেন্ট করেন। মম এই ধরনের প্রশংসা বাক্যে মুগ্ধ হন, হন অনুপ্রাণিত। আগামীর পথে এগিয়ে যান মম আরো উত্সাহ নিয়ে। অভিনয়ের পথচলায় এর মধ্যে এক দশক পার করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই মম স্ক্রিপ্টের প্রতি ভীষণ চুজি ছিলেন। ছিলেন চরিত্রের প্রতিও মনোযোগী। যে কারণে তার অভিনীত নাটক-টেলিফিল্মগুলো দেখে দর্শক মুগ্ধ হয়েছেন। তার অভিনীত চরিত্রগুলোও দর্শকের মনে রেখাপাতও করেছে। মম বলেন, ‘অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই স্ক্রিপ্টটা সবসময়ই আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করি। যখন হাতে স্ক্রিপ্ট আসে তখন পড়ি, প্রস্তুতি নিই। আবার যখন সেটে আসি, তখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে ভালোভাবে স্ক্রিপ্টটা পড়ে নিই। তাতে অভিনয় করাটা উপভোগ্য হয়ে ওঠে।’ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মম ক্যামেরার সামনে স্ক্রিপ্টটা মুখস্থ করেই দাঁড়াতে অভ্যস্ত। অভিযোগ আছে, অনেকেই স্ক্রিপ্ট মুখস্থ না করেই সেটে যান। এই অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়নি মমকে কখনোই পথচলার দশ বছরে। একজন লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার হিসেবে মিডিয়াতে তার আগমন হলেও অভিনয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেই একজন গুণী অভিনেত্রীতে নিজেকে পরিণত করেছেন। অভিনয়জীবনের শুরুতেই তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কিন্তু তখন এই পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দটা দারুণভাবে উপভোগ করতে পারেননি। এখন বয়স একটু বেড়েছে মমর। পুরস্কারের মর্যাদাও উপলব্ধি করেন হূদয় দিয়ে। তাই মমর আশা যেন এখন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি এই সম্মাননা অর্জন করতে পারেন। সেই আশায় ভালো ভালো কিছু চলচ্চিত্রে কাজও করছেন তিনি। চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করে অভিনয় করছেন আপনমনে। অন্যদিকে টিভি মিডিয়ায় তার বলার মতো অর্জনের জায়গাটি সজল তৈরি করে নিয়েছেন অনেক আগেই। তারপর থেকে একে একে শুধু নিজের জনপ্রিয়তা আর অভিনয়দক্ষতার সঙ্গেই যেন হাত ধরাধরি করে এগিয়ে গেছেন দর্শকপ্রিয় এই অভিনেতা। এ কারণে টিভি নাটকের অভিনেতা হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে এখন আর বাড়তি কোনো বিশেষণের প্রয়োজন হয় না। অভিনয়ের শুরুর কথা জানতে চাইলে তিনি সুন্দর একটি হাসি উপহার দিয়ে বলেন, ‘তখন সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছি। তাই পৃথিবীটাও অন্যরকম। ভালোমন্দের মিশেলে রঙিন ভুবন। অনুষ্ঠানে হইচই লাফালাফির মধ্যেই চোখে পড়ে যাই কোকাকোলা প্রতিনিধির এবং তখনই কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাবটা আসে। সেই থেকে শুরু। আর বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করতে গিয়ে গুণী নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেনের সান্নিধ্য পাই। এরপর বন্ধু তন্ময় এসে একদিন বলল, চল আমরা হাসতে হাসতে একটি নাটক তৈরি করে ফেলি। কেউ দেখুক বা না দেখুক আমরাই দেখব। সেই বন্ধুর কথাতেই ‘তখন জানতে বাকি’ নাটকে কাজ করি। নাটক দেখে আফজাল হোসেন তো মহা ক্ষ্যাপা। ফোন দিয়ে খুব করে বকাবকি করলেন। আফজাল হোসেনের কথা শুনে অভিমান জমল সজলের মনে। পণ করেছিলাম জীবনে আর কখনো নাটক করব না। এটাই শেষ। পরে সেই আফজাল হোসেনই বাসায় ডেকে ধরে ধরে বোঝালেন নাটকে কাজ করার পার্থক্য। সংলাপগুলো কখন কিভাবে আওড়াতে হয়। এরপর অভিনয় করে যাচ্ছি।’  সম্প্রতি প্রচারিত হওয়া ‘তুমি আমি’ শিরোনামে একটি নাটকে জুটি হয়ে অভিনয় করেন সজল ও মম। মনসুর রহমান চঞ্চলের রচনা ও সরদার রোকনের পরিচালনায় এই নাটকে তাদের অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তারা দর্শক ও মিডিয়াবোদ্ধাদের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। ওই নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে মম বলেন, ‘রোকনের নির্দেশনায় এর আগেও কাজ করেছি। অনেক যত্ন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে। সবচেয়ে বড় কথা ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণের আগে রোকন শিল্পীর সঙ্গে দৃশ্যটি নিয়ে বেশ বোঝাপড়া করে নেন। তাতে শিল্পীও মনের মতো অভিনয় করতে পারেন। তুমি আমি নাটকটির গল্পটাই মূলত দর্শককে মুগ্ধ করেছে। আর আমার সহশিল্পী সজল ভাই সবসময়ই দারুণ সহযোগিতাপরায়ণ। আমাদের দুজনের মধ্যকার রসায়ন দর্শককে মুগ্ধ করেছে।’ সজল বলেন, ‘মম নিনঃসন্দেহে একজন গুণী অভিনেত্রী। শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন মানুষ হিসেবে তিনি অসাধারণ। সবসময় তিনি কো-আর্টিস্টকে অভিনয়ের পারফেকশনে সহযোগিতা করেন। আর গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করলে অভিনয়টাও সুন্দর হয়। সব মিলিয়ে ভালো একটা কাজ ছিল এটি। তাই তো দর্শকেরা আমাদের অভিনয় পছন্দ করেছেন।’ এর আগে সরদার রোকনের পরিচালনায় সজল ও মম ‘অচেনা মনের গলিতে’ নাটকেও অভিনয় করেছিলেন। এদিকে প্রথমবারের মতো মম হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সিনেমার নাম ‘ম্যাক্স কি গান’। এটি পরিচালনা করেছেন সামির খান। অপর দিকে, সজল নাদের

চৌধুরীর পরিচালনায় ‘জ্বিন’ সিনেমায় অভিনয় করছেন। এতে তার বিপরীতে আছেন পূজা চেরী।