কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা নিয়ে নির্মিত হলো ভিন্ন রকমের একটি ভিডিও। এটি নির্মাণ করেছেন অভিনেতা টনি ডায়েস। আবৃত্তি ও চিত্রগ্রহণ তারই। ‘আমি’র ভিডিওতে মডেল হয়েছেন টনির স্ত্রী নৃত্যশিল্পী প্রিয়া ডায়েস। সংগীতায়োজন করেছেন মারভিন রূপম অধিকারী। ইউটিউবে ডায়াসইবিজ চ্যানেলে এরইমধ্যে এটি প্রকাশিত হয়েছে। কবিতার ভিডিও প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টনি ডায়েস বলেন, ‘আমি যখন কলেজে উঠি, তখন খুব আবৃত্তি করতাম। শ্রদ্ধেয় আবৃত্তিকার কাজী আরিফের কাছে হাতেখড়ি। মুক্তকণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমিতে কর্মী ছিলাম। সালটা ১৯৮৬ হবে। তখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইনি, ডাকসু থেকে শুরু করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি বারান্দা, শহীদ মিনার চত্বর, কবিতা উত্সবসহ সবখানেই আবৃত্তি করতাম। আবৃত্তির বেশ চর্চা হতো তখন। খুব ভালো লাগত। ঢাকা রেডিওতে সে সময় সকাল বেলায় ‘দর্পণ ম্যগাজিন’ নামে খুব জনপ্রিয় একটা অনুষ্ঠান হতো। সেখানে প্রায় সকালে সরাসরি কথিকা পড়ে অথবা আবৃত্তি করে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে সকালের ক্লাস ধরতাম। মাসের একটা হাত খরচ চলে আসত তা থেকে। বাংলাদেশের বড় বড় আবৃত্তিকারদের নিয়ে ‘আবৃত্তিকার সংঘ’ হয় সে সময়ে। আবৃত্তির আনুষ্ঠান করতেন। দর্শক আসতেন টিকিট কেটে আবৃত্তি শুনতে। আমি কলেজপড়ুয়া ঢাকা শহরে রাত জেগে বন্ধুরা মিলে ভ্যানগাড়িতে পা ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াতাম আর আবৃত্তির অনুষ্ঠানের পোস্টার লাগাতাম। বিনিময়ে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করার সুযোগ পেতাম। গোলাম মুস্তাফা, হাসান ঈমাম, আলী যাকের, আসাদ্দুজামান নূর,কাজী আরিফ, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, আশরাফুল আলম, প্রজ্ঞা লাবণী, সুবর্ণা মুস্তাফা, পীযূষ বন্দোপাধ্যায়সহ নাম করা শিল্পীদের সঙ্গে পা কাঁপাকাঁপি করতে করতে আবৃত্তি করার চেষ্টা করতাম মঞ্চে। উনারা উত্সাহ দিতেন। অনেক কিছুই শিখেছি উনাদের কাছে থেকে। কৃতজ্ঞতা উনাদের প্রতি। দুটো আবৃত্তির অ্যালবাম বের হয়েছিল আমার। নব্বই দশকের শেষের দিকে। ‘তোমার চোখে দেখি’ সঙ্গে ছিল আফসানা মিমি আর ‘শস্য গন্ধা নারী’ রচনায় অনন্ত হীরা, সঙ্গে ছিল তানিয়া আহমেদ। তারপর আর করা হয়নি অডিও কোম্পানিগুলোর কম বাজেটে দায় সারা কাজের জন্য। এখন সবকিছুই অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেছে। যেন মনে হয় মহাশূন্যে সব ভেসে বেড়াচ্ছে। হাতের ফোন সবকিছু দেখার আর শোনার মাধ্যম হয়ে গেছে। মানুষ কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে আর দেখছে। আমার কাছে মনে হয় যেটা শোনার সেটা যেন দেখতে গিয়ে হারিয়ে না যায়। সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুব কম মানুষ আছেন সিডিতে শুনছেন এখন। তাই মাঝে মাঝে আমার নতুন ইউটিউব চ্যানেল ‘ডিয়াজইবিজ’ আবৃত্তি রিলিজ করব। কাজগুলো অবসর সময়ে করব আমার ভক্ত, আমার নিজের ভালো লাগার জন্য।’