টোকন ঠাকুর

ঝিলের কিনারে দিন

 

এর কোনো, মানে আছে খোকা, এর কোনো মানে আছে?

তির তির করে কাঁপে জল, ঝিলের কিনারে দিন

কী কারণে কোন পাখি বাসা বোনে কেন কোন গাছে?

পালিয়ে যাওয়ার আগে ভালোবাসা থাকে অন্তরীণ?

 

এর কোনো মানে নেই খুকি, এর নেই কোনো মানে

সম্পর্ক পালাতে চাইলে তাকে হাত ধরে বলা, ‘থাকো’

গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিপাত যেভাবে যাকে যেদিকে টানে

হয়তো বৃক্ষ বলেন, ‘এসে আমাকে জড়িয়ে রাখো’

 

তারও কোনো মানে আছে? বলা যায়, কোনো মানে নেই

উড়ে এসে পড়ে আছে বারান্দায় কোনো এক পাতা—

পাতাগাছটির খবর কি আজ—আমি সত্যিই জানিনে

কত শব্দ-বাক্যে ভারী বুক—বুকটাই যখন খাতা

 

সেখানে রচিত কবিতারা থেকে যায় গ্রন্থহীন

এটাই তো রোম্যান্টিসিজম, ঝিলের কিনারে দিন...

 

 

 

চতুর্দশপদী নিয়তি-২

 

কোনদিন কোনো এক ঝোপঝাড় কুঞ্জের আড়ালে

আমরা ফড়িঙ ছিলাম, ওড়াউড়ি করেছিলাম।

মানবচক্ষুর কাছে পতঙ্গ ছিলাম; চক্রবালে

রূপ-পরিগ্রহে আজ আমি চড়ুই, ধর্মের বিধি কাম

আর তুমি বিবাহিতা, সন্ধ্যার বান্ধবী, তুমি রাধা

তুমি দারুবন থেকে প্রলুব্ধকরণী দ্রাক্ষা, চোলাই

তুমি টলোমলো জল চৈত্রাদিঘিতে দুর্জ্ঞেয় ধাঁধা

 

আমি ধার্মিক, ঝিনুকের বক্ষ খুলে দেখতেই চাই

যদিও তুমি আমার দুরপনেয় ফড়িঙবান্ধবী

উড্ডয়নের অনেক আগুন তোমার ডানায়, বুকে

উড়তে উড়তে আপেলবনে ঢুকে পড়েছি আমি

 

যখন মাছি ছিলাম, যেন মাছিই আপেলের স্বামী

শ্রাবণদিনের লিরিক্যাল মেঘ খরার সম্মুখে

 

তুমি বালিমাধুর্যের কবিতা... আমি বৃষ্টিফোঁটা, কবি