একটা মুখের জন্য
একটা মুখের জন্য জোড়া চোখের কী মরু তৃষ্ণা!
তৃষ্ণার শুকিয়ে যাওয়া সেই মৃত আকুল আকুতি
এখনও বহন করে পউষের এই মরা নদী :
আজ এতকাল পরে আমার কেবল কান্না পাচ্ছে
ফেলে আসা গাছগুলো কী নিবিড় ভালোবাসা দিয়ে
আমাকে জড়িয়ে রাখে কী মধুর নিমগ্ন নেশায়!
যে যাবার সে যাবেই পথ শুধু পথে রবে পড়ে
প্রিয় হলুদিয়া পাখি কেন ডাকে পাতার সংসারে?
ঐ শৈশব যেন এক হাবাগোবা দিগম্বর নদী;
পাড় ভাঙা যৌবনের বৃষ্টিময়ী প্রেমের উত্সবে
ময়ূর ময়ূরী নাচে, খুলে যায় ভোরের জানালা;
যে তুমি নদীর মতো বাতাসের হাত ধরেছিলে
আমাকে উন্মাদ করে সে এখন পাহাড়ে উঠেছ—
তোমার ভেতরে যেতে কতবার পথে নামি, পথ
চলে গেছে অন্যদিকে অন্য কারও গোপন খামারে।
হরিণী বাঘের পিঠে
মেয়েটা অস্থির হয়ে ছুটে যাচ্ছে হলুদ উত্সবে;
বসন্ত বাঘের মতো হামলে পড়ে ইটের বাগানে!
পাতার আড়ালে চিতা বসে আছে বহুদিন ধরে:
রাত কাটে চন্দ্রহীন, দিন গেল মেঘের ডেরায়;
শরীরে উত্তাপ নিয়ে বাসন্তিকা হাওয়ায় উড়ছে—
আমি অন্ধ চোখ বুঁজে পড়ে আছি নগর মহলে;
ও ফাল্গুন, এ কেমন প্ররোচনা তোর! কুমারীর
চোখের মোহনাজুড়ে জ্বলে তার লকলকে ক্ষুধা।
নতুন শরীরী গন্ধে ঝড় ওঠে জলের উজানে—
যে রঙিলা মাঝি দেহের ডিঙ্গিতে তুলে মেয়েটাকে
বাদাম উড়িয়ে নাচে তার বাঁকা কোমর জড়িয়ে,
জঙ্গলে বাঘের সঙ্গে সে নির্ভয়ে নিত্য কেলি খেলে :
বসন্ত শিকারে নামে ডোরাকাটা হলুদ বাঘিনী—
হরিণী বাঘের পিঠে যৌবনের আগুন জ্বালায়।