ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার জুমার নামাজে তুরষ্কের বিরুদ্ধে সিরিয়া হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইমাম আয়াতুল্লাহ সেঈয়েদ আহমেদ খাতেমি। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরষ্কের অভিযানকে 'সামরিক আগ্রাসন' উল্লেখ করে তুরষ্ককে সিরিয়া থেকে দ্রুত তাদের সৈন্য সরিয়ে নিতে আহ্বান জানান খাতেমি। খবর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বার্তাসংস্থা মেহর নিউজের।
তেহরানে শুক্রবার জুমার নামাজে নিজের বক্তব্যে ইমাম খাতেমি বলেন, তুরষ্ক একটি স্বাধীন দেশের মাটিতে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি তুর্কি সরকারের প্রতি সৌদি আরবের মতো যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার শিকার না হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সৌদি আরব মার্কিনিদের গোলামে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কথামত চলতে চলতে তারা এখন কাদায় আটকে গেছে। তারা মার্কিনিদের সাথে হাত মিলিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেনে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করবে বলে হুঙ্কার ছেড়েছিল। কিন্তু সাত বছর হয়ে গেছে, শক্তি-সামর্থে ইয়েমেনের বিদ্রোহীরাই এখন তাদের চেয়ে এগিয়ে আছে।'
এসময় তিনি তুরষ্ককে সাবধান করে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পা দেয়ার আগে সতর্ক হন। উত্তর সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সৈন্য সরিয়ে নিয়ে আপনাদের সৈন্য সেখানে বহাল করতে বলছে। খবরদার! নিজেদের জন্য নিজেরাই চোরাবালি তৈরি করবেন না।'
এর আগে ৯ অক্টোবর তুর্কি সেনাবাহিনী সিরিয়া সীমান্তে তাদের হাজার হাজার সৈন্য পাঠিয়ে কুর্দিদের সেখান থেকে হটাতে অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত তাদের অভিযানে শত শত কুর্দি সেনা নিহত হয়েছে বলে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সেসময় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান দাবি করেন, তারা সেখান থেকে কুর্দি বাহিনীকে হটিয়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করবেন। তারপর সেখানে সিরিয়ান রিফিউজিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন। এদিকে তুরষ্কের হামলায় আতঙ্কিত হয়ে হাজার হাজার সিরিয়ান বেসামরিক নাগরিক ওই অঞ্চল ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন।
আরও পড়ুনঃ পানি ঘোলা করার রাজনীতি বন্ধ করুন: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী
ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বরং এই আগ্রাসনের ফলে সিরিয়াতে মানবাধিকারের বিষয়টি চরমভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। তুরষ্কের উচিত যত দ্রুত সম্ভব তাদের সৈন্য সিরিয়া থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া, নয়তো ইরান এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
ইত্তেফাক/এসএইচএম