‘ত্রিপুরা ছিল বাংলাদেশের শরণার্থীদের পরম আশ্রয়স্থল’

অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘একাত্তরে বাংলাদেশের শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে ত্রিপুরা ছিল একটা পরম আশ্রয়স্থল। সেখানে একপর্যায়ে ত্রিপুরার জনসংখ্যার সমান হয়ে গিয়েছিল শরণার্থীদের সংখ্যা। আমাদের চোখের সামনে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে লাগল। ভারত সরকার শরণার্থীদের জন্য কর আরোপ করলেন ভারতের নাগরিকদের ওপর। সারাদিন তো বটেই, গভীর রাত পর্যন্ত সরকারি দপ্তর খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ত্রিপুরার নাগরিদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির একটা অংশ ছেড়ে দিয়েছিল শরণার্থীদের থাকার জন্য। এরকমই একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’

গতকাল শুক্রবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের বাইরে যে সম্মাননা গ্রন্থ প্রকাশ হতে চলেছে, এটি আগরতলা থেকে হয়েছে। এই বইটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের শতাধিক লেখকের কবিতা ও প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। সবমিলিয়ে যারা বইটি প্রকাশ করেছেন, তাদের আন্তরিকতার ছাপ স্পষ্ট। স্বাধীনতার এতো বছর পরেও বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা অটুট রেখেছেন। আর বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাও তারা ফুটিয়ে তুলেছেন কাজের মধ্য দিয়ে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। তিনি বলেন, ‘সেদিন ত্রিপুরার মানুষের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো বাংলাদেশের জন্ম ঠিকই হতো, তবে তা বেশি সময় লাগত। বঙ্গবন্ধুও সেই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে স্বাধীনতার পরই ত্রিপুরায় যান।’

স্মারকগ্রন্থের সম্পাদক ও দ্বি-বর্ষব্যাপী বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি (২০১৯-২০২১) সভাপতি ড. দেবব্রত দেবরায় বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন শুরু হয়েছে সমগ্র বিশ্বব্যাপী যথাযথ মর্যাদায়। যে মানুষটি আজীবন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে পৃথিবীর বুকে একটি বাংলা ভাষার রাষ্ট্র এবং বাঙালি জাতিরাষ্ট্র স্থাপন করে দিয়ে গেছেন। তার জন্মশতবর্ষ বিশ্বব্যাপী বাঙালিরা উদযাপন করবেন, এটাইতো স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-আন্দোলনের সময় আগরতলার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জীবন জড়িয়ে পড়েছিল নিবিড়ভাবে। তাই আগরতলা তথা ত্রিপুরাবাসীর চিন্তন, মনন এবং হূদয়াকাশে বঙ্গবন্ধুর স্থান সুউচ্চে প্রতিষ্ঠিত।

তিনি জানান, শুধু ঢাকা বা আগরতলাতেই নয়, আগামী দুই বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে দিল্লি, কলকাতা, গুয়াহাটি, শিলিগুড়ি, ছত্তিশগড়, শিলচর ইত্যাদি স্থানে প্রস্তুতি চলছে। জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, কবি অসীম সাহা, ড. আমীষ কুমার বৈদ্য, নিয়তি রায় বর্মণ প্রমুখ।