g মা হ বু ব আ ল ম
নাট্যাঙ্গনে অগ্রণী সংগঠন বাংলাদেশ থিয়েটার দীর্ঘ বত্রিশ বছর যাবত ব্যতিক্রমধর্মী প্রযোজনা ও বৈচিত্র্যময় কর্মকাণ্ড দিয়ে নাট্যাঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান সৃষ্টি করেছে এবং অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ১৭টি প্রযোজনা নিয়ে দর্শকহূদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ থিয়েটারের বত্রিশ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থিয়েটারের উত্সব র্যালি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। র্যালিসহ দলের আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিত, প্রচার সম্পাদক মাসুদ আলম বাবুসহ আরও নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন দলের দল প্রধান ও নাট্যকর্মীরা। প্রায় ছয় শ লোকের অংশগ্রহণে র্যালিটি প্রেস ক্লাবের সামনে ঘুরে আবার ফিরে আসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। এরপর দুপুরে দলের পক্ষ থেকে অতিথি নাট্যকর্মীদের আনন্দ ভোজের আয়োজন করা হয়। আর দিনব্যাপী বিভিন্ন নাটকের দলের উল্লেখযোগ্য নাটকের অংশবিশেষের প্রদর্শনী হয়। বিকালে জাতীয় নাট্যশালার সামনে শুরু হয় গানের অনুষ্ঠান। এভাবেই চলেছে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বাংলাদেশ থিয়েটার প্রদর্শন করেছে তাদের সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রযোজনা ‘সী-মোরগ’, ‘সিরাজ যখন নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ও খন্দকার শাহ আলম অভিনীত একক অভিনয়ের নাটক ‘আমি’। এই তিনটি নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা খন্দকার শাহ আলম। এ ছাড়াও এই নাটকগুলোয় অভিনয় করেছেন আব্দুল আজিজ, ফারজানা ফাতেমা চৌধুরী সুমি, আজিজ রেজা, মাসুদা খান, আখতার মাহমুদ, মজিবুর রহমান বাবু, সাইফুল ইসলাম খান সুমন, রেজানুর রহমান রাজা, সুইট, ইমন খান, গাজী আলাউদ্দীন বেগ, ফিরোজ শাহী, রেজাউল হক রেজা, দেলোয়ার হোসেন রাতুল, শরিফ সৈকত, তানভীর, শাওন, মিল্টন, রনি, সাদ্দুসহ আরও অনেকে। বাংলাদেশ থিয়েটার নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে সমাজের সংকট সম্ভবনা তুলে ধরে একটি মানবিক মূল্যবোধের সমাজ নির্মাণে প্রত্যয়ী সংগঠন। ভিন্নমাত্রার প্রযোজনার মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। দলের প্রযোজনাসমূহের বৈচিত্র্য সেই স্বাক্ষরই বহন করে। এ অনুষ্ঠানে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের অমর প্রেমকাহিনি অবলম্বনে খন্দকার শাহ্ আলমের নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় মঞ্চায়িত হয়েছে নাটক ‘নকশীকাঁথা’, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যের সমাহার ঘটেছে। এ ছাড়াও প্রদর্শিত হয়েছিল ভারতেন্দু হরিশ চন্দ্রের নাটক ‘বিদ্যাসুন্দর’-এর নব নাট্যরূপ। এর নির্দেশনা দিয়েছেন গোলাম সারোয়ার। এ ছাড়াও বাংলাদেশ থিয়েটার অন্যান্য প্রযোজনা ও পথনাটকের মধ্যে দিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে নিয়মিত। অন্যান্য মঞ্চ সফল প্রযোজনার সঙ্গে ১৭তম প্রযোজনা হিসেবে যুক্ত হয়েছে মাহবুব আলম রচিত এবং ড. আইরিন পারভীন লোপা নির্দেশিত একক অভিনয়ের নাটক ‘আমি’। যা বাংলাদেশ থিয়েটারের নাট্যভাবনাকে ভিন্নমাত্রায় যুক্ত করেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক, অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক খন্দকার শাহ্ আলম একজন মঞ্চসফল অভিনেতা। তিনি দীর্ঘ বত্রিশ বছর ধরে মঞ্চে অভিনয় করছেন এবং বিভিন্ন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।