জন্মনিয়ন্ত্রণ সনদ

  সাঈদ সাহেদুল ইসলাম

 

নিরক্ষর জরিনা বিবি বিধবা। পাশের বাড়ির ভাবি মর্জিনার কাছে পান খাওয়ার ছলে ভাবির কাছ থেকে দেশের-দশের সংবাদ শুনে নেওয়া তার প্রতিদিনের রুটিন। সেদিন খবরের কাগজের সংবাদটা শুনলো ‘জনসংখ্যার চেয়ে জন্মনিবন্ধন বেশি’। আগ্রহভরে মর্জিনার থেকে সংবাদটার তর্জমা শুনে নেয় জরিনা বিবি। মর্জিনা বিষয়টা ভেঙে বললে জরিনা বিবি বলল, ‘ভাবি আমার ছোট ভাইটার ছেলের নাকি এখনো জন্মের কার্ড করে নাই। ভাই তো ঢাকায় থাকে। ভাবি কইছে ছেলেটার কার্ড করে নিতে। আমারে ইউনিয়ন পরিষদ যাইতে কয়। আমি কী পারব?’

মর্জিনা বিবি সরলভাবে সব বুঝিয়ে দিয়ে বলল, ‘ছেলের বয়স তো বছর পার, এখনো জন্মনিবন্ধন করেনি কেন? কাগজপাতি নিয়ে গেলে তো ওরা কাজটা করে দেবে। যাও, ক্ষতি কী?’

বিষয়টা বুঝে নিয়ে পরদিন ইউনিয়ন পরিষদে হাজির জরিনা বিবি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বলল ‘ভাই এখানে কি জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হয়?’

প্রশ্ন শুনে দায়িত্বরত ব্যক্তি বললেন ‘জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে এখানে নয়, বরং অন্যখানে যোগাযোগ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় আপনার স্বামীসহ কোনো চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।’

জরিনা বিবি বলল, ‘ভাই, স্বামী তো বছর পার হলো মইরা গেছে। ভাইটাও বিদেশে থাকে। ওর ছেলের জন্মনিয়ন্ত্রণ সনদ নাকি এখানেই পাওয়া যাবে?’

দায়িত্বরত ব্যক্তি এবার বিষয়টি বুঝতে পেরে বললেন, ‘ওটা জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, ওটা জন্মনিবন্ধন সনদ। তবে এখন ‘জনসংখ্যার চেয়ে জন্মনিবন্ধন বেশি’। তাই সবকিছু পরখ করে, সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে কাজ করতে হবে তো তাই কিছু নিয়ম মানতেই হবে। আপনি একটু বসুন, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি...।’