সত্যজিত্ বিশ্বাস
বিনে পয়সায় ইউরোপ ভ্রমণ
প্রথম বন্ধু :শুনেছিস, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাকি আটজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার একটা দল স্পেন আর সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে!
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন? কোন সেমিনারে যোগ দিতে?
প্রথম বন্ধু :আরে না, লিফট কিনতে। এদের মধ্যে আবার ছয় জনের নাকি এ বিষয়ে কারিগরি কোনো জ্ঞান নেই।
দ্বিতীয় বন্ধু :তাহলে তাদের গিয়ে লাভ কী?
প্রথম বন্ধু :কেন, বিনে পয়সায় ইউরোপ ভ্রমণ।
মন খারাপের কারণ
পেঁয়াজ :কী খালাতো ভাই, মন খারাপ কেন?
রসুন :আচ্ছা তুই-ই বল, সুখে দুঃখে আমরা পাশাপাশি থাকি কি না?
পেঁয়াজ :থাকি তো।
রসুন :তোর গায়ের রং দেখ আর আমার গায়ের রং দেখ। আমার গায়ের রং ধবধবে ফরসা কি না বল?
পেঁয়াজ :অবশ্যই।
রসুন :আমাদের দুজনের মধ্যে মানুষের শরীরের জন্য কে বেশি উপকারী তুই বল?
পেঁয়াজ :এটা তো সবাই জানে।
রসুন :তাহলে?
পেঁয়াজ :তাহলে কী?
রসুন :রূপে, গুণে, উপকারিতায় শ্রেষ্ঠ হলাম আমি আর সেলিব্রেটি হলি তুই?
লিফট কেনা কমিটি
স্ত্রী :ওগো শুনছ, আমাদের নতুন ফ্ল্যাটের জন্য লিফট কেনা কমিটিতে আমার নামটা ঢুকিয়ে দাও না।
স্বামী :কেন?
স্ত্রী :তাহলে সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি থেকে লিফট কিনব।
স্বামী :সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি কেন?
স্ত্রী :কেন জানো না, লিফট কেনার জন্য ওই লিফট কোম্পানি বিমান ভাড়া, হাত খরচসহ বিদেশ ভ্রমণের সব ধরনের খরচ বহন করে।
জ্ঞান আহরণের জন্য
সাংবাদিক :শুনলাম, আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নাকি লিফট কেনার কাজে বিদেশ যাচ্ছেন?
কর্তৃপক্ষ :ঠিকই শুনেছেন।
সাংবাদিক :তাদের ছয় জনেরই তো লিফট বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান নেই।
কর্তৃপক্ষ :তো, সমস্যা কী! জ্ঞান নেই বলেই তো জ্ঞান আহরণের জন্য যাচ্ছেন।
আমার মামা সব জানে
ভাগ্নে :আচ্ছা মামা, এই যে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আট জনের একটা দল নাকি লিফট কেনার জন্য কারখানা ও চালান কাজ দেখার জন্য বিদেশ যাচ্ছেন, এটা কি ঠিক?
মামা :অবশ্যই ঠিক।
ভাগ্নে :কী যে বলো না? এখন তো প্রযুক্তির সাহায্যে দেশে বসেই সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখা সম্ভব।
মামা :বেকুবের মতো কথা বলিস কেন? ভালো জিনিস দেখিয়ে পরে যদি খারাপ জিনিস দিয়ে দেয়? নিজেরা গেলে তো টিপে-টুপে দেখা যাবে। প্রযুক্তি দিয়ে কি সম্ভব?
কী প্রমাণ হয়?
জনসংখ্যার চেয়ে জন্ম নিবন্ধন বেশি—এতে কী প্রমাণ হয়?
—এতে প্রমাণ হয় মানুষ এখন অনেক সচেতন। একবার তো বটেই, জন্ম সাল নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগলে কখনো কখনো দুই, তিনবারও জন্মনিবন্ধন করে রাখে।
খুব সম্ভব
প্রথম বন্ধু :জনসংখ্যার চেয়ে জন্ম নিবন্ধন বেশি—এটা কী করে সম্ভব?
দ্বিতীয় বন্ধু :বাচ্চার স্কুল ভর্তি থেকে শুরু করে কলেজ, অফিস, আদালতে জন্ম নিবন্ধনের কাগজ লাগলে খুব সম্ভব।
বাড়াটাই তো স্বাভাবিক
প্রথম বন্ধু :দোস্ত শুনছিস, খুলনায় নাকি বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :বাড়াটাই তো স্বাভাবিক।
প্রথম বন্ধু :কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু :যে এলাকার নামই ‘খুল-না’, সে এলাকার মানুষ সম্পর্কের গিট খোলার চেষ্টা করবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
সঠিক মূল্য
প্রথম বন্ধু :শুনছিস, বিমান বন্দরে এক যাত্রীর পেটে নাকি ২২৮০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :বলিস কী? তারপর?
প্রথম বন্ধু :তারপর আবার কী? জেলে।
দ্বিতীয় বন্ধু :নাহ, জাতি সঠিক মূল্য দিতে শিখল না। একে তো জাতীয় জাদুঘরে দেওয়া উচিত।
স্টার না মুন
মা :কীরে, সবার রেজাল্ট কার্ডে স্টার ভর্তি আর তোরটায় সব গোল্লা।
বাচ্চা :কী যে বলো মা? সবাই স্টার পায়, আমি পাই ফুল মুন।
ডাকাডাকি
প্রথম বান্ধবী :আমার বরটার যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না রে। ঘুমের মধ্যে ঘোঁত্ ঘোঁত্ করে নাক ডাকে।
দ্বিতীয় বান্ধবী :আমারটাও রে। তবে আমারটা নাক দিয়ে না, মুখ দিয়ে ডাকে। ঘুমের মধ্যে কাজের বুয়া থেকে শুরু করে অফিসের মহিলা কলিগ, সবাইকে ডাকতে থাকে।
সওয়াল জবাব
বাবা :স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে পড়াশোনা নাই, কাজকর্ম নাই। শুধু মোবাইল টেপা আর ঘুম।
ছেলে :অফিস থেকে ফিরে তোমার কাজটা কি শুনি? টিভির খবর দেখা আর সবার খুঁত ধরা?
কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন