ছিপছাপ গড়নের পাতলা চেহারার মানুষ সুভাষ মহন্ত। বয়স চল্লিশের কোটায়। হাতে হাতুরি, সরু বাটালি, ছেনি আর পাউডার। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নাম ও ঠিকানা খোদাইয়ের কাজ করছেন বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে।
চলতে পথে শহরের উপকণ্ঠে ঢেলাপির হাটে কথা হয় সুভাষ মহন্তের সঙ্গে। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার পুরাতন ভুষির বন্দরে। পিতা স্বর্গীয় ছফুর মহন্ত। বাবার মৃত্যুর পরেই সংসারের হাল ধরেন সুভাষ মহন্ত। বাবার হাত ধরেই কাজ শিখে জীবন-জীবিকার লড়াইয়ে নেমে পড়েন তিনি।
প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে দিনাজপুর, কোনোদিন নীলফামারী ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান। মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল, রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, হাতঘড়ি প্রভৃতি জিনিসে মুহূর্তে লিখে দেন নাম, ঠিকানা ও প্রয়োজনে মোবাইল নম্বরও। বিনিময়ে ১০/২০ টাকা করে পারিশ্রমিক নেন। এভাবে তার প্রতিদিন আয় হয় ৩ থেকে ৪শ’ টাকার মতো। এই টাকায় পরিবারের ৪ সদস্যের সংসার চলছে।
সুভাষ মহন্ত বলেন, ‘পরিশ্রম করে খাই, চুরি-চামারি তো করি না। বাবা চলে যাওয়ার পর সংসারের হাল আমাকেই ধরতে হয়। বাবার কাছ থেকেই এই কাজটি শিখেছিলাম বলে কোনোরকমভাবে হলেও সংসারটা চালাতে পারছি।’ হালকা হাতুরির ঠুকঠাক শব্দে ছেনির মাথায় আঘাত করে খোদাইয়ের কাজ করেন তিনি। লেখা শেষে সাদা পাউডার ছিটিয়ে লেখার উজ্জ্বলতা বাড়ানো হয়। খোদাই করে নেওয়া বাইসাইকেলের মালিক আমজাদ, খলিল ও সবুর আলী জানান, তার হাতে জাদু আছে। নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর খোদাই করা থাকলে সেটি চুরি বা হারিয়ে গেলেও ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মালিকদের এ রকম আস্থা ও বিশ্বাসে সুভাষকে দিয়ে এ কাজ করে নিচ্ছেন অনেকেই। এমন কাজ দেখে অনেকেই সুভাষের বেশ প্রশংসা করেন।