সৌদি আরবের বৃহত্তম আরামকো কোম্পানির তেল প্ল্যান্টে হামলার তিন সপ্তাহ পার হয়েছে। মিসাইল বা ড্রোন যা দিয়েই এই হামলা হয়ে থাক এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হামলার দায় স্বীকার করলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তাদের সে দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। দায়ী করা সত্ত্বেও সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পথে পা বাড়ায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ হামলা রিয়াদ ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করতে পারে।
আবকাইকে ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বের বৃহত্তম তেল প্ল্যান্টে হামলার পর প্রথম ধা্ক্কায় সৌদি আরবের তেল উত্পাদন অর্ধেকে নেমে আসে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা রফতানি নিয়ে কথা বলেছেন। অক্টোবরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সৌদি আরব সফরের কথা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়া যায় তার এ সফরকালে রাশিয়ার পান্টসির গ্রুপ অব অ্যান্টি ইউএভি বিক্রির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আগামী মাসে দুবাইতে যে এয়ার শো হচ্ছে তাতে এই সিস্টেমটি ডিসপ্লে করা হবে। সৌদিতে হামলার দিনকয়েক পর রাশিয়ার রসবোরনএক্সপোর্ট মন্তব্য করেছিল প্রচলিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে চালকবিহীন উড়োযানের হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সময় এসেছে ইউএভি হামলা প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নয়নের। রাশিয়া সম্প্রতি এ ধরনের প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ করেছে এবং এক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতিও করেছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির বাজারটি রাশিয়ার জন্য ছিল যথেষ্ট সীমিত। কারণ মার্কিন মিত্রদের কাছে এ জন্য ধরনা দেওয়া ছাড়া মস্কোর কোনো উপায় ছিল না। সৌদিতে হামলার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও যে ফাঁক রয়েছে সেটি তুলে ধরা রাশিয়ার জন্য সহজ হয়েছে। পুতিন সম্ভবত এরকম সুুযোগেরই অপেক্ষায় ছিলেন। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রাশিয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইরান, সিরিয়া ও ইসরাইলের সঙ্গে রাশিয়ার সুসম্পর্ক রয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে মস্কো সরাসরি অংশ নিয়েছে এবং সেখানে সামরিক ঘাঁটি গড়েছে। অন্যদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্কের কাছে আমেরিকার আপত্তি সত্ত্বেও বিক্রি করেছে মিসাইল সিস্টেম। ১৬ সেপ্টেম্বর আঙ্কারায় তুরস্ক ও ইরানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় যোগ দেন পুতিন। তিনি সেখানে সৌদি আরবের প্রতি তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার আহ্বান জানান। সৌদি আরব যদিও ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘সৌদি নেতৃবৃন্দের বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ইরান এখন এস-৩০০ মিসাইল সিস্টেম এবং তুরস্ক এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ অ্যান্টি এয়ারক্রাফট সিস্টেম কিনছে।’ পুতিন যখন একথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এসময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। সেখানে ছোটোবড়ো যে ঘটনাই ঘটুক তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে মস্কো। ২০১৫ সালে সিরিয়ার সৈন্য পাঠানোর মধ্য দিয়ে যার শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এতদিন ঐ অঞ্চলে যে ভূমিকা রেখে এসেছিল তাকে নতুন করে সঙ্গায়িত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া।