চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপ কমছে!

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপ অনেকটা কমে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক আরোপের বিষয় নিয়ে যে বাড়াবাড়ি রকমের বিরোধ চলছিল তা অনেকটা স্বাভাবিক হতে চলেছে। ওয়াশিংটনে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বৈঠক তেমনটাই ইঙ্গিত করে। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে যে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ অনেকটা কমে আসবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

দুই দিনের আলোচনা শেষে দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারী একটি ধাপে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে চীনকে বাড়তি ৫ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে না। অবশ্য এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলারের কৃষি পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা উভয় দেশ একটা চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে আমাদের জন্য সামনে ভালো কিছু একটা অপেক্ষা করছে। এখন শুধু কাগজে-কলমে তা লেখা বাকি। আর সেটি সম্পন্ন হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আগামী ডিসেম্বরে চিলিতে জাতিসংঘের শীর্ষ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে এর আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।’ হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দুই দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে এ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। চীনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হে বলেছেন, আলোচনার বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আমরা আশা করছি, এ নিয়ে আমরা একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। তবে সমাধানের নতুন পথ তৈরি হলেও আগামী ডিসেম্বরে চীনা পণ্যে যে ১১৬০ কোটি ডলারের মার্কিন শুল্ক আরোপের কথা রয়েছে সে বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। চীন অবশ্য এ বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা না বললেও দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠছে, তাই সামনে এ বিষয়গুলোও ধীরে ধীরে সমাধানের পথে যাবে। এ ব্যাপারে মার্কিন প্রধান মধ্যস্থতাকারী রবার্ট লাইটিজার জানান, চলতি মাসের শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি স্থগিত হলেও ডিসেম্বর থেকে আরো যে সব চীনা পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি ব্যাপারে উভয়েই একমত প্রকাশ করেছেন যে, তারা একটি সমঝোতার পথে যেতে পেরেছেন। আর এ ধাপটিই সামনের যে কোনো জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দুই দেশ এই বিষয়ে একটি আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তবে আরো অনেক বিষয়ে তাদের সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে চীন অনেক দেশকে তাদের বাজারে প্রবেশের বিনিময়ে বাণিজ্য গোপনীয়তা হস্তান্তর করতে বাধ্য করছে। এ ধরনের অভিযোগ থেকে চীনকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। এছাড়া চীনকে আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ে বেশ স্বচ্ছ হতে হবে। বিশেষ করে চীন কীভাবে তার মুদ্রার মান নির্ধারণ করে সে ব্যাপারে তাদের স্পষ্ট করে জানাতে হবে। কেননা অভিযোগ রয়েছে, মুদ্রার মান কমিয়ে চীন তাদের রপ্তানিকারকদের বিদেশি মার্কেটে অবৈধ সুবিধা এনে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনে এ বৈঠক দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব অনেক কমিয়ে আনবে। বিষয়টি যদি তেমনভাবে এগিয়ে যায় তাহলে দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন-যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই তা মঙ্গলজনক।