বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি সংক্রান্ত জমির বিবাদ নিয়ে যে কোনও দিন রায় ঘোষণা করতে পারে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে এই জমি মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি চলছে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার গভীর রাত থেকে অযোধ্যায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে এ ধারা জারি থাকবে। এর ফলে অযোধ্যায় চার বা ততোধিক ব্যক্তি জমায়েত হতে পারবেন না আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই এই তথ্য দিয়েছে।
এক সপ্তাহব্যাপী বিজয়ার বিরতির পরে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার ৩৮ তম দিনের শুনানি হতে চলেছে। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আগামী ১৭ নভেম্বর বর্তমান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গাগৈয়ের পদত্যাগের আগেই এই মামলার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাচ্ছে বলে জানা গেছে।
১৪৪ ধারার ব্যাপারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ কুমার ঝা'র নিজের টুইটবার্তায় লেখেন, 'অযোধ্যা জমি মামলার রায় প্রত্যাশায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আসন্ন উৎসবগুলোর কথা বিবেচনা করেই ওই ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
শনিবার গভীর রাতে করা টুইটে তিনি আরও বলেন, 'অযোধ্যায় যারা বাস করছেন এবং বাইরে থেকে এখানে যারা আসছেন তাদের সকলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে।'
একইসঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পূর্বে ৩১ আগষ্টও একই ধরণের আদেশ জারি হয়েছিল এবং বর্তমান আদেশ 'পূর্ববর্তী আদেশে যে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বাদ ছিল সেগুলি অন্তর্ভুক্ত করে' জারি করা হয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ইতিমধ্যে অযোধ্যায় ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছে এবং দীপাবলি উপলক্ষে ওই বিতর্কিত জমিতে মাটির প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি চেয়েছে। পরিষদের মহন্ত নয়ন দাস বলেন, 'পুরো অযোধ্যা যখন দীপাবলীতে আলোকিত হবে, তখন রাম লাল্লা(রামের ভিটা) কেন অন্ধকারে থাকবে? আমরা বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে সেখানে প্রদীপ জ্বালানোর জন্যে অনুমতি চাইব।'
আরও পড়ুনঃ গণভবনে আবরারের বাবা-মা
নয়ন দাসের মন্তব্যের জবাবে এই মামলার মুসলিম আইনজীবী হাজি মেহবুব বলেন, মসজিদের জায়গায় যদি হিন্দু পরিষদকে প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি দেওয়া হয় তবে মুসলমানরাও সেখানে নামাজ পড়ার অনুমতি চাইবে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত শিয়া মুসলিম মীর বাকির বাবরি মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয় এবং এর ফলে দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে।
ইত্তেফাক/এসএইচএম