শেষ হলো ‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক জামদানি উত্সব

বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জামদানি উত্সব ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয় প্রদর্শনশালায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উত্সবের সফল সমাপনী উপলক্ষে গত ১২ অক্টোবর বিকেল ৫টায় উত্সবের প্রাণপুরুষ জামদানি বয়নশিল্পীদের সনদ প্রদান করা হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বয়নশিল্পীদের হাতে সনদ তুলে দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, উত্সবের কিউরেটর চন্দ্র শেখর সাহা, বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সভাপতি রুবী গজনভী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শেখ সাইফুর রহমান।

জামদানি উত্সব আয়োজনের মূল অনুষঙ্গ হিসেবে ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের কাছে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁকে ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস সিটির মর্যাদাদানের আবেদন করা হয়। এই প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের বিচারকদল বাংলাদেশ ঘুরে যান। আনন্দের বিষয় হলো, ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সোনারগাঁ, বাংলাদেশ : ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস সিটি ফর জামদানি ওয়েভিং-এর স্বীকৃতি পত্র পেয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো স্থান ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস সিটির মর্যাদা লাভ করল! এর ফলে জামদানি শিল্পের পীঠস্থান হিসেবে সোনারগাঁর সুনাম ও কৃতিত্ব বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হবে; ‘ক্রিয়েটিভ ট্যুরিজম’-এর দ্বার উন্মোচিত হবে; স্থানীয় উদ্ভাবনী শক্তি, মেধা ও অভিজ্ঞতার পরিধি বিস্তৃত হবে; জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও কৌশল বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হবে; ভারতের মহাবলিপুরম (পাথর খোদাই) ও জয়পুর (গয়না), চিনের ফুশিন (অ্যাগেট), থাইল্যান্ডের সাখন নাখন (ইন্ডিগো ডাই), ডেনমার্কের বর্নহোম (সিরামিক), ইরানের কারপোরগান (মৃিশল্প) ও ইসফাহানসহ বিশ্বের বিভিন্ন ক্রাফট সিটির সঙ্গে সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব ও বিনিময়ের অভিনব সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের উদার সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য এই গৌরব বয়ে এনেছে।