ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা হলেও ২০০৫ সালে দেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর সাফল্যের ১৪তম বর্ষে পদার্পণ করছে এ বিদ্যাপিঠ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের এই পথচলায় শিক্ষার্থীদের অভিব্যক্তি জানাচ্ছেন- আহসান জোবায়ের
ও জয়নুল হক
জগন্নাথ আমার ভালোলাগা
আমার ভালোবাসা আর ভালোলাগার প্রাণের বিদ্যাপিঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। দেখতে দেখতে সাফল্যমণ্ডিত এই প্রাণের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৪তম বছরে পদার্পণ করল। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম সর্বত্র রয়েছে জবি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য। পড়ন্ত বিকালে কিংবা ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ক্যাম্পাসে ফুটে ওঠে এক দারুণ প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন নিয়মিত আড্ডা জমে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বর, ভাস্কর্য চত্বর, শান্ত চত্বর, এমসিজে চত্বর, অসহায় চত্বর, কাঁঠালতলা, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি ও টিএসসির চায়ের দোকানগুলোতে। দলবেঁধে খনসুটি, হাসি-খুশি, মায়া জড়ানো আড্ডায় ওঠে আসে অনেক কিছুই। কখনো গানে গানে ছড়িয়ে পড়ে তারুণ্যের উন্মাদনা, কখনো ছোটখাটো খেলায় মেতে ওঠে তারুণ্য ভরা সবুজ প্রাণ। ক্লাস আর আড্ডা-গানে কীভাবে যে বিকাল ঘনিয়ে আসে, তা বুজেই আসে না! দেশের একেক প্রান্ত থেকে আগত একেক শিক্ষার্থীর আঞ্চলিক সংস্কৃতি আর পুরান ঢাকার সংস্কৃতির সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয় অন্যরকম একটি পরিবেশ। বাংলা নববর্ষ, বসন্ত বরণসহ বিভিন্ন লোকজ উত্সবে ক্যাম্পাস সাজে নবরুপে, পুরান ঢাকার মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আনন্দের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।
হাসনা হেনা
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
হোক মেধাবী আর নৈতিক মানুষ তৈরির আঁতুড়ঘর
ঐতিহ্য আর গৌরবময় ইতিহাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার বাতিঘর হয়ে অপ্রতিরোধ্য যাত্রার সাক্ষী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। হাঁটি হাঁটি পা পা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪তম বছরে পদার্পণ করছে। স্নাতক সম্মান ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ, কেরানীগঞ্জের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি প্রশাসনের সুদৃষ্টি প্রভৃতির মাধ্যমে দিনদিন ভারি হচ্ছে সাফল্যের ঝুলি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঊষালগ্ন থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিংবা নিজেদের অধিকার আদায়ে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্র এবং একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত হলেও দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সাফল্যমণ্ডিত পদচারণা ইতিমধ্যে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বগৌরবে দীপ্তমান হয়ে বিদীর্ণ করুক বাধাবিপত্তির ধূম্রজাল, হোক মেধাবী আর নৈতিক মানুষ তৈরির আঁতুড়ঘর, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জবির ১৪তম বছরে পদার্পণে প্রিয় বিদ্যাপিঠের প্রতি রইলো এই শুভকামনা।
মো. এনামুল হাসান কাওছার
শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগ।
এখানে অনেক
উত্থানপতন...
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবন একজন শিক্ষার্থীর জন্য বহুল প্রতিক্ষিত অধ্যায়। উচ্চশিক্ষায় নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার পর থেকে দীর্ঘসূত্রতার বাস্তবতা রুপে পূর্ণতা পায় এই ধাপে এসে। আমরা পাড়ি জমাই নতুন এক পৃথিবীতে। অপূর্ণ স্বপ্নগুলো রুপায়িত করতে শুরু হয় নতুন এক যাত্রা। এ প্রয়াস নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনায় পা রাখে কতগুলো নবীন প্রাণ। এরকম কতগুলো স্বপ্ন নিয়ে আমার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগে পা রাখা। এখানে এসে নতুন পরিচয় জবিয়ান। জবিয়ান হিসেবে পরিচিতি হতে শুরু করলাম নতুন পরিবেশ আর নতুন কিছু মানুষের সঙ্গে। বাড়তে লাগলো প্রত্যাশা আর যোগ হতে লাগলো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি। অপর্যাপ্ত ক্লাসরুম, বাস সংকট, আবাসন সংকট, নেই পর্যাপ্ত গবেষণার সরঞ্জাম। স্থায়ী সমস্যাগুলো নিয়ে সূদুরপ্রসারি পরিকল্পনার কথা বললেও ক্ষুদ্র সমস্যাগুলোকে দীর্ঘদিন জিয়িয়ে রেখে প্রকট আকার ধারণ করানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে এখন কিছুটা পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। এভাবেই প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়। এত উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও সফল হয় অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়টা আসলে রঙ্গমঞ্চ!
নিশাত নাওয়ার জয়া
শিক্ষার্থী, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগ।
জগন্নাথ সবার চেয়ে
এগিয়ে
যুগের সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে অতীত ও বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। মাত্র ১৪ বছরে রয়েছে আমাদের অনেক প্রাপ্তি, বিসিএস, ব্যাংক জবসহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য অবদান রাখছে। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর পাশাপাশি চলছে গবেষণার কাজ। কিছুদিন আগেই পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ থেকে ডিজেল ও পেট্রোল তেল তৈরির প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহম্মাদ মাহমুদুর রহমান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, ইন্টারনেট সুবিধা এবং গবেষণাগারেও নজর বাড়ান হয়েছে। এরই মধ্যে সমগ্র ক্যাম্পাস ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে। ই-বুক সিস্টেমে চলে গেছে পুরো গ্রন্থাগার। এখন সব বই বা গবেষণা পত্রিকা পড়ার জন্য শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই সব অনলাইনে প্রবেশ করতে পারেন। আমরা আশাবাদী ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দ্রুত আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে।
হারুনুর রশিদ
শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।
আমার প্রথম
উত্সব
প্রকৃতিতে শরত্ আর সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে প্রাণের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৪তম বর্ষে পদার্পণ করছে। এটা আমার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন হবে। তাই নিজের মধ্যে অনেক উত্সাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। প্রায় সাত একর জায়গার ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। আয়তনে ছোটো হলেও আমরা আমার প্রাণের ক্যাম্পাস নিয়ে আমি গর্বিত। এখানে আসলে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই অনেক উত্সাহ আর উদ্দীপনা কাজ করত। উচ্চশিক্ষা নিতে এসে পরিবার-পরিজন ছেড়ে অনেক দূরে থাকতে হয়। প্রথমদিকে নিজের মনকে বোঝাতে পারতাম না। এখন অনেক প্রিয়জন আছে। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-খেলায় কাটিয়ে দিয়েছি প্রায় একটা বছর। মনে হচ্ছে সেদিনই ক্যাম্পাসে এসেছি। বিশ্বদ্যািলয়ে এসে নতুন একটা পরিবার পেয়েছি। এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে আগামী ২০ অক্টোবর। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস সামনে। এখন থেকেই চার দিকে উত্সব উত্সব মনে হচ্ছে। ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন সাজে। চার দিকে আলোক জলমল নতুন আবহ তৈরি করেছে। সবশেষে আশা রাখছি, সবার সর্বাত্মক সহযোগিতায় পরিপূর্ণভাবে পালিত হবে আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাসের শুভ জন্মদিন।
নিশাত তাহসিন অপি
শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ।