তাজবিদুল ইসলাম
অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সেদিন ময়মনসিংহ থেকে ‘হাওর এক্সপ্রেসে’ আমরা ২২ জন পা রেখেছিলাম টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে। এই ভ্রমণকে ‘টাঙ্গুয়া-কথন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ঐশী তার স্মৃতিচারণে বলেন, বহুদিনের প্ল্যানমাফিক যাব-যাব না করতে করতে অবশেষে সুনামগঞ্জে সেদিন আমাদের পা পড়েছিল। তবে ট্যুরে যাওয়ার চেয়ে তার আয়োজনসহ আগে-পরের আনুষঙ্গিক কাহিনীগুলো বেশি চমকপ্রদ ছিল আমার কাছে। তিন মাস ধরে প্ল্যান করা, একে-তাকে বলে এড করা, যাব ভেবেই নাচানাচির শুরু, এ রাজি তো সে না, মাঝরাতে স্টেশনে গিয়ে বসে থাকা, একজনের ট্রেন মিস করা, ইমনদের হঠাত্ উকুলেলের সুর, প্রিন্স-মুনদের আড্ডা, ট্রলারে রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া রেখেই সবাই হাওরে ঝাঁপিয়ে পড়া, তারপর সময় ভুলে সবার হাওরে ডুবে যাওয়া।
‘নীলাদ্রি লেক’ দেখে আত্মতৃপ্তিটা ছিল আকাশছোঁয়া, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সেদিনের বৃষ্টিস্নান। তারপর রাতে সবার আড্ডা, হাসি, গান, গল্প সবমিলিয়ে তখন ছিল আমাদের উত্সব-আমেজ। শামসের গিটারের সুর, তুষারের মাঝে মাঝে হাঁক ছাড়া, মামার আসর জমানো, সেদিন একটা জলসার আমেজ তৈরি করেছিল। সঙ্গে শুকরিয়ার নীরবতা, পে মার রান্না, অর্পিতার আড্ডা, জেসিয়া আমার আর আবিরের দফায় দফায় ঘুম, তৌফিকের গঠনমূলক ছবি, মুন-বন্যার আড্ডা, রাফি-তিয়াসের হাসিতে ফেটে পড়ার মতো একেকটা লাইন, আইভির পাগলামির গল্পগুলো কখনোই ভুলতে পারবো না স্মৃতি থেকে। ঐশীর কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গটগট করে কথাগুলো বলতে থাকে সুচি।
টাঙ্গুয়া-কথনের সবচাইতে শিক্ষণীয় দিক হিসেবে উল্লেখ করে সবশেষে আবির বলে, সেদিন রাতে আমরা চায়ের আড্ডা দিতে দোকানে এসে বৃষ্টিতে আটকে যাই। এত পরিমাণ বৃষ্টি ছিল যে আমরা নৌকায় ফিরতে পারছিলাম না। নিরুপায় হয়ে পাশের দোকান খোলা দেখে সে দোকানে কিছুক্ষণ আশ্রয় নিতে গেলাম! সেখানে পরিচয় হলো শাহীন ভাইয়ের সঙ্গে। শাহীন ভাই, যিনি অন্য আট-দশজনের মতো নয়, একজন নির্বাক মানুষ! কথা বলতে পারে না। কিন্তু জীবনযুদ্ধে এত সহজে হার মেনে না নিয়ে তিনি নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন নিজেই। হোক সেটা ছোটো কিংবা বড়ো।