খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

রাজনীতি ছাড়া কেমন আছে

  মো. শফিকুল ইসলাম

 

১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর চারটি ডিসিপ্লিনের ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। কোনো এক শীতের সকালে শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড় শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসেন তত্কালীন উপাচার্য ড. গোলাম রহমান। আসার পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয় রাজনীতির নামে লাশের মিছিল আর অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনতে চান না তারা। নিষিদ্ধ করা হোক ছাত্র রাজনীতি। শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে মেনে নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হলো বাংলাদেশের প্রথম রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর  হাঁটি হাঁটি পা পা করে কেটে গেছে ২৭টি বছর। দুই যুগের বেশি সময়ের এ পথচলায় কখনো অভ্যন্তরীণ ছাত্র কোন্দলের মুখে অচলাবস্থায় পড়তে হয়নি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে। কিংবা নোংরা রাজনীতির ছোবলে ক্যাম্পাসে কখনো রক্তের দাগ লাগেনি। নেই সেশনজট। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যথাসময়ে ক্লাস, পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রকাশিত হয়ে থাকে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে যেখানে মিছিলে না গেলে সিট হয় না, সেখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাক্রম এবং পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সিট বরাদ্দ দেয়া হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন রাজনীতি থাকলে এসবের কিছুই সম্ভব হতো না।  শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও রাজনীতি সচেতন। দাবি আদায় কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সবক্ষেত্রেই কথা বলেন বজ্রকণ্ঠে।  কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে শুরু করে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা তার সাক্ষ্য বহন করে। প্রতিবছর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান (র্যাগ ডে), পিঠা উত্সব, দক্ষিণবঙ্গে পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড়ো উত্সব আয়োজন করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের হাতে। আস্থার প্রতিদান সরূপ কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যা শিক্ষার্থীদের সততা, দায়িত্ববান এবং পরস্পর শ্রদ্ধাশীল মনোভাবের পরিচয় বহন করে। খুবির সিংহভাগ শিক্ষার্থীই মনে করেন রাজনীতি ছাড়া তুলনামূলক ভালো আছেন তারা।