শৈশব পার করার পর যখন বোনেদের খুনশুটিতে দিন পার করার সময়, মুক্তা আর ঝিনুক ছিলেন তাদের নামের
মতোই অবিচ্ছেদ্য। একজন পরিপূর্ণ করতেন আরেকজনকে। ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে যে সফলভাবে ব্যবসা দাঁড় করিয়ে
ফেলা যায়, তার উত্কৃষ্ট উদাহরণ এই দুই বোন। তারা তাদের গল্প বলেছেন
দিলরুবা সুলতানা মুক্তা
আমার খুব ছোটো থেকেই ইচ্ছে ছিল সারপ্রাইজিং কিছু করার, মারাত্মক পেশন ছিল। পড়াশোনাটা শেষ করার সময়টাতেই খুব করে নাড়া দেয় ভিন্ন কিছু একটা করার ইচ্ছা, চেষ্টা, এর মধ্যেই বিয়ে এবং তারপর নিজের কিছু করার ব্যাপারটাকে আমার চাইতে বেশি যে ভালোবেসেছে, সম্মান করেছে, সে আমার জীবনসঙ্গী তপু। আমরা দুজনে মিলে প্রথমেই গড়ি ‘সাঁকো ক্রাফট’ নামের হ্যান্ডিক্রাফটস আর ইন্টেরিয়র পণ্যের বাহারি প্রতিষ্ঠান! কিন্তু কোথায় যেন মিলছিল না সুর-তাল। একদিন নেপালি এক ডাক্তার বান্ধবীর সঙ্গে নিজের চুলের সমস্যা সমাধান নিতে গিয়ে এসেনশিয়াল অয়েল আর আয়ুর্বেদিক নানান উপাদান মিশিয়ে বানিয়ে ফেল্লাম চমত্কার হারবাল চুলের তেল! আমার ছোটো বোনের এক ফেসবুক পোস্টেই বাজিমাত! অর্ডার আর অর্ডার। সব চাইতে মজার বিষয় হলো সেদিন পর্যন্ত আমার কোনো ফেসবুক আইডিই ছিল না। গ্রাহকের সমস্যা শুনে, ত্বক ও চুলের ধরন ভেদে চাহিদানুযায়ী তৈরি হয় কোকো+সেসামি তেল, যার কারণে এখন পর্যন্ত ৯৯% গ্রাহক সন্তুষ্ট! বিস এসআইআর-এর সনদপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সুনামের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিটি কোনায় আর অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, চীন, জাপানসহ সর্বোন্নত দেশগুলোতে সমাদৃত হয়েছে। ব্যবসায় ঝুঁকি থাকবেই, কিন্তু পরিস্থিতি সাপেক্ষে সুচিন্তিত পরিকল্পনা আর বাস্তব সম্মত চিন্তা যে কোনো ব্যবসাকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়!
রাজিয়া সুলতানা ঝিনুক
বোটানিতে মাস্টার্স করছি! ছোটো থেকেই শখ ছিল অনেক বড়ো হব- অনেক মানুষ চিনবে আমাকে! কিন্তু কখনো ভাবিনি সেটা অনলাইনের মাধ্যমে হবে! ২০১৬-এর জুলাইতে একদিন চট্টগ্রাম থেকে ছোটো ভাই খাঁটি চন্দন আর মুলতানি মাটি এনে দিল।
একদমই কোনো কারণ ছাড়া একটা গ্রুপে পোস্ট করলাম, সেই থেকেই ‘লায়লাতিল’-এর পথ চলা। অসংখ্য পজেটিভ রিভিউ পেয়েছি ক্রেতাদের থেকে! কারণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে যত্ন নিতে সবাই ভালোবাসে। এতে নেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
ফেইস প্যাকের গুণগত মান নিয়ে এখনো নিজেকে চ্যালেঞ্জ করি, যুদ্ধ করি বেটার থেকে বেস্ট করার জন্য! আম্মু আর বড়ো আপু পাশে না থাকলে কখনো এত জলদি একা হাতে সব করতে পারতাম না! আমরা একটা নীতিতে বিশ্বাসী কোয়ালিটির সঙ্গে কোনোভাবেই কম্প্রোমাইজ করা যাবে না!
আমাদের প্রোডাক্টের এখন অনেক অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, আর এভাবেই আরো ভালো করে যেতে চাই। পণ্যের গুণগত মান আর আন্তরিক ব্যবহার আজকে আমাকে শুধু সম্মান ই দেয়নি দিয়েছে অগণিত মানুষের ভালোবাসা! অল্প কয়েকদিনে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। পেয়েছি তাদের সম্মান। এটি ধরে রাখতে চাই। যাতে তাদের এই বিশ্বাস অটুট থাকে।