পড়াশোনা মানে বাধ্য হয়ে ঠেকে শিখছি, তা নয়; বরং দেখে শিখছি, বুঝে শিখছি, এটাই প্রকৃত শিক্ষা। বর্তমান প্রজন্ম যতটা না শিখতে চায়, তার চেয়ে বেশি চায় জিততে। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আসলেই কি এই প্রজন্ম সৃজনশীল শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছে নাকি গত্বাঁধা মুখস্থ বিদ্যায় আটকে যাচ্ছে? আমাদের স্কুল, কলেজ, শিক্ষক, কোচিং সেন্টার ও বাবা-মায়েরা মিলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলেছে জিপিএ-৫ পাওয়াকে। শিক্ষার্থী কিছু শিখুক বা না শিখুক, জিপিএ-৫ পেলেই সবাই খুশি। ফলে গৌণ থেকে যাচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানার্জনের আকাঙ্ক্ষা। সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে করণীয় সম্পর্কে আমাদের এবারের আয়োজনে নিজেদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন নীতি নির্ধারক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকবৃন্দ। সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও গ্রন্থনা সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার
‘সৃজনশীল শিক্ষা আগেও ছিল, শুধু মাঝপথে কিছুটা লাইনচ্যুতি ঘটেছে’
—অধ্যক্ষ হামিদা আলী
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ
আজ যে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির কথা নতুন করে শুনছি, সেটা নতুন কিছু নয়; শিক্ষা প্রণয়নের সেই আদিকাল থেকেই এটা ছিল। নানাবিধ কারণে শিক্ষা থেকে সৃজনশীলতার বিষয়টি হ্রাস পেতে পেতে শিক্ষা হয়ে পড়েছিল একরকম অন্তরসারশূন্য এবং ফলাফলনির্ভর। অর্থাত্ মাঝপথে শুধু লাইনচ্যুতি ঘটেছে আমাদের। এমন অবস্থায় সরকার নতুন করে সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষার ব্যাপারটিতে গুরুত্ব দেয়। সৃজনশীল শিক্ষার বাস্তবায়ন নির্ভর করে মূলত প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিকতাপূর্ণ পাঠদানে শিক্ষার্থীদের মূলপাঠ্য অনুশীলনে অভ্যস্ত করাসহ প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে বৈচিত্র্য আনয়নের ওপর। একইসঙ্গে পাঠদান হতে হবে বাস্তবতার আলোকে ও উত্সাহব্যঞ্জক। এমন পরিস্থিতিতে আমরা রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে সবুজ মাঠবেষ্টিত উন্মুক্ত আদর্শ স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করি সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। যেখানে সবুজ মাঠবেষ্টিত আধুনিক ক্যাম্পাসের পাশাপাশি নোট, সাজেশন ও মুখস্থনির্ভর পুঁথিগত বিদ্যার পরিবর্তে সৃজনশীল পদ্ধতিতে মূল পাঠ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট, স্মার্ট ক্লাস ও ই-লাইব্রেরি তৈরির মাধ্যমে এক ভিন্ন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। ফলে ২০০২ সালে মাত্র ২০০ ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন প্রায় ১২০০০ ছাত্রছাত্রী এখানে পড়ালেখা করছে। প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন ও ইংলিশ মিডিয়ামের এই প্রতিষ্ঠানের মালিবাগ, বনানী, বারিধারা, মিরপুর ও উত্তরা মিলে মোট ৫টি শাখা। এখানে কর্মরত আছেন ৯০০ মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ১২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রতিটি শাখায় আছেন স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ অধ্যক্ষগণ। শিক্ষামূলক কার্যক্রম ও ফলাফলেও সাউথ পয়েন্টকে দৃষ্টান্ত বলা চলে।
‘প্রত্যেকের মাঝেই সৃজনশীলতা আছে, আমাদের দায়িত্ব এটাকে বের করে আনা’
—বশির আহাম্মেদ ভূঁইয়া
অধ্যক্ষ, ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ
সৃজনশীল শিক্ষার ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই সৃজনশীলতা আছে। কিন্তু সেটা কিভাবে বের করে আনা যাবে, সেটা নিয়েই প্রাথমিক স্তর থেকে বিশদভাবে কাজ করতে হবে। এখানে পুরো পাঠদান প্রক্রিয়াটিকেই সৃজনশীল করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের তো বটেই, শিক্ষার্থীদেরও সৃজনশীলতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের মানসিকতার মধ্যে সৃজনশীলতা নিয়ে আসতে হবে। পুরো শিক্ষাদান প্রক্রিয়া, বইপুস্তক ও শিক্ষকদের সৃজনশীল হতে হবে, সর্বোপরি সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থাতেই সৃজনশীলতা লাগবে। এরপর আসবে প্রশ্নপত্রের সৃজনশীলতার বিষয়। প্রশ্নপত্র সৃজনশীল হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশের সঙ্গে একটা যোগসূত্র তৈরি হবে। এই ব্যাপারে আমরা ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাটাকে বাস্তবতার নিরিখে নান্দনিক ব্যাপার হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস রেখেছি। আমাদের শিক্ষাদান পদ্ধতির বৈচিত্র্যের কারণে শিক্ষা আনন্দময় ও আকর্ষণীয় হয়। আমরা গতানুগতিক মুখস্থ বিদ্যা, নোটসংস্কৃতি, পাঠ্যসূচি সংক্ষিপ্তকরণ বা সাজেশন নির্ভরশীলতা পরিহার করে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ সিলেবাস তথা মূল পাঠ্যপুস্তক সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতে সর্বদা দৃঢ় প্রত্যয়ী। এখানে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি ছাড়াও প্রজেক্টর, কম্পিউটার, সিডি, ভিসিডিসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষে পঠিত তত্ত্বীয় বিদ্যাকে আরও কার্যকর এবং বাস্তবজীবনে দক্ষভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজনে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাগারে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষা ব্যবহারিক রূপ পায়। www.trustcollege.edu.bd
‘পুঁথিগত শিক্ষার দৌরাত্ম্যে সামগ্রিক জ্ঞানার্জন ব্যাহত হচ্ছে’
—এম এ কালাম
প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ, গুলশান কমার্স কলেজ
শিক্ষার বিষয়টা শুধু পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কিংবা সার্টিফিকেট অর্জন করা নয়। আমরা এখনকার প্রেক্ষাপটে দেখছি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কেবল জিপিএ-৫ নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছেন। পুঁথিগত পড়াশোনার বাইরে সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন করার শিক্ষা গুরুত্ব পাচ্ছে না। আর প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানের বাইরে অন্যান্য জ্ঞান মূল্যায়নের সুযোগ কম। তাই আমরা এই বিষয়টিতে জোর দিয়ে ধীরে ধীরে মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছি। এছাড়া নিত্যনতুন বিভিন্ন আয়োজন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সহশিক্ষা কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, যেটি তাদের জ্ঞানকে পরিশীলিত করছে। আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের হামেশা এই মর্মে সতর্ক করি যে, তোমরা জানাশোনা, তথা শেখার মাধ্যমে যে ফলাফল করবে, তা ক্ষণিকের মুখস্থ বিদ্যায় অর্জন করা ফলাফলের তুলনায় অনেক শ্রেয়। ফলে কোনটা নেবে, সেটা তোমাদের বিবেচ্য। আর বিষয়টিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আসলে শিক্ষকদের ভূমিকাই মুখ্য। শিক্ষক যদি মনে করেন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবেন এবং শ্রেণিকক্ষে সেভাবেই পড়াবেন, প্রশ্ন করবেন পরীক্ষা নেবেন, তাহলে সেটা সম্ভব। যদিও কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের ইচ্ছার বাইরে যেয়ে কিছু করা বেশ কঠিন। তবু শিক্ষকগণ যদি প্রকৃত বাস্তবতা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে বলেন, আমার ধারণা তারা দ্বিমত করবেন না। তাছাড়া আদর্শ শিক্ষকগণ কখনোই সৃজনশীল শিক্ষার বাইরে শ্রেণিপাঠ্যে আগ্রহী হবেন না বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের কলেজের আদর্শ শিক্ষকগণ হামেশাই সৃজনশীল শিক্ষাদান করছেন এবং আমরা সমন্বিতভাবে এই পরিবেশকে লালন করেই ভালো ফলাফল অর্জনে সক্ষম হচ্ছি।
‘সৃজনশীল শিক্ষার জন্য চাই যোগ্য ও আদর্শ শিক্ষক’
—মো. আফছার উদ্দিন খান
সভাপতি, গভর্নিং বডি, উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কাউন্সিলর, ১নং ওয়ার্ড, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
বর্তমান সরকার সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে যেকোনো মূল্যে এই শিক্ষার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এটা একমাত্র সৃজনশীল প্রশ্নপত্রেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। এর কারণ অনুসন্ধানে যেয়ে দেখলাম, সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রশিক্ষিত দক্ষ শিক্ষকের অভাব। তারাই যদি ঠিকমতো না বোঝেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দেবেন! প্রকৃত শিক্ষদের আমরা শনাক্ত করতে ভুল করি এবং যথাযথ সম্মানও তাদের দিতে পারি না। আর নীতি নির্ধারকদেরও উচিত সৃজনশীল পদ্ধতির জন্য শিক্ষকদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। এটা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এমন শিক্ষক আছেন, যাদের অর্থ দিয়ে নয়, তাদের কাজের মূল্যায়ন ও সম্মান দেওয়ার মধ্য দিয়েই কেবল আমরা সেরাটা পেয়েছি। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু বোর্ড পরীক্ষাতেই নয়, ভর্তি পরীক্ষাসহ জীবনের প্রতিযোগিতামূলক সকল পরীক্ষায় অভূতপূর্ব ফলাফল করাসহ খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ছেলেমেয়েদের জন্য এমন বই প্রণয়ন করতে হবে যেগুলো তাদের আনন্দ দেবে। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী, তাদের সুযোগ দিতে হবে। আমাদের দেশের আয়তন বাড়বে না, প্রাকৃতিক সম্পদ বাড়বে না, কিন্তু আমাদের জনসংখ্যা আরো বাড়বে। এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তাদের সুশিক্ষিত করতে হবে। দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আগামীতে এটাই আমাদের মূল শক্তি হয়ে দাঁড়াবে বলে আমার প্রত্যাশা।
‘সৃজনশীল শিক্ষার মধ্য দিয়েই ভালো ফলাফল অর্জন করছে আমাদের শিক্ষার্থীরা’
—কর্নেল নূরুন নবী (অব.)
অধ্যক্ষ ও উপদেষ্টা, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
একজন মানুষের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, সেইসঙ্গে প্রয়োজন মানবিক গুণাবলি অর্জন। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পাই, আমাদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কেবল ভালো ফলাফল বা জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার দিকেই ধাবিত হচ্ছেন। মানবিক গুণাবলি ও দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি গৌণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে শিক্ষকতাকে শুধু চাকরি ভেবে অনেকে নির্দিষ্ট বিষয় পড়ানোর বাইরে বাড়তি কিছুতে মনোযোগ দিতে চান না। এই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে ভিন্নতা আনা যেতে পারে, শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের আরো উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সৃজনশীল শিক্ষা বাস্তবায়নে আমরা মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এই ত্রিমুখী ভূমিকাকে এক ও শক্তি হিসেবে ধারণ করে এক সঙ্গে কাজ করছি। যেখানে প্রথম ও প্রধান বিবেচ্য হলো, প্রতিটি বিষয়ের মূল পাঠ্যপুস্তকের সার্বিক চর্চা। যেখানে শিক্ষার্থীদের বোধগম্য হয় এমন সহজ ও সাবলীল লেকচার প্রদান ও অন্যান্য সৃজনশীল পাঠদান প্রক্রিয়াগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ত্রিমুখী সমন্বয়ের ফলে অভিভাবকগণ যেমন শুধু জিপিএ অর্জনের জন্য মরিয়া হচ্ছেন না, তেমনি শিক্ষকগণও চাপমুক্তভাবে মুখস্থ বিদ্যাকে পাশ কাটিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে নির্বিঘ্নে অব্যাহত রাখেন। বিশেষ করে আমরা কর্তৃপক্ষও সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের ব্যাপারটিকে প্রাধান্য না দিয়ে সৃজনশীল বিকাশের চর্চাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। এতে ফলাফলও ভালো হচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা শিক্ষামূলক কার্যক্রম যেমন খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। আর এজন্য উত্তরার মনোরম পরিবেশে তৈরি করছি স্থায়ী অত্যাধুনিক ক্যাম্পাসসহ যাবতীয় অবকাঠামো তথা সুযোগ-সুবিধা।
‘সৃষ্টি পরিবারে সৃজনশীল শিক্ষার সার্বিক চর্চা বিদ্যমান’
—মীর নাজমুল হুদা সা’দ
অধ্যক্ষ, সৃষ্টি শিক্ষা পরিবার, টাঙ্গাইল
পূর্ণ জ্ঞানার্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। বর্তমান ফলাফলসর্বস্ব শিক্ষার যুগে যার প্রকট অভাব। নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও যে অনেক কিছু শেখার আছে, তার প্রয়োজনীয়তা এখন আমরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছি। ক্লাসের একগাদা পাঠ্যবই, গাইড বই, প্রাইভেট টিউটর, কোচিং সেন্টার ইত্যাদির পেছনে দৌড়ে শিক্ষার্থীরা শক্তি ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে। এই গত্বাঁধা সীমিত শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসাই হবে বর্তমান শতকের চ্যালেঞ্জ। ‘সৃষ্টি শিক্ষা পরিবার’ দেশের ৬৪ জেলায় আদর্শ শিক্ষা সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে যে কাজে নেমে ছিল, আজ তা লক্ষ্যপূরণের দ্বারপ্রান্তে বলা যায়। আমাদের কর্মবীর তরুণ প্রতিষ্ঠাতা ড. শরিফুল ইসলাম রিপন পিএমজেএফ সফল শিক্ষা-উদ্যোক্তার পাশাপাশি একজন নিষ্ঠাবান সমাজসেবকও। তিনি দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে প্রায় ২৭ বছর আগে টাঙ্গাইল শহরে এটি শুরু করেন। বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে সৃষ্টি শিক্ষা পরিবার অত্যন্ত বিশ্বস্ত একটি নাম। গুণগত মানসম্পন্ন আধুনিক ও আদর্শিক সৃজনশীল শিক্ষা তথা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল নিশ্চিত করার কারণে অত্যন্ত সীমিত সময়ের ব্যবধানে টাঙ্গাইলসহ প্রায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এই কালজয়ী প্রতিষ্ঠানটির নাম। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের পাশাপাশি ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, গাজীপুর, আশুলিয়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও শেরপুরে চলছে সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। যেখানে ব্রেন স্ট্রমিং পদ্ধতির সফল প্রয়োগে সৃজনশীল শিক্ষার সার্বিক চর্চা ও পরিবেশ বিদ্যমান। প্রজেক্টরে অংশগ্রহণমূলক পাঠদান, পর্যাপ্ত এমসি টেস্ট, মডেল টেস্ট, সলভ ক্লাস ও এক্সট্রা কেয়ার পড়াশোনায় আগ্রহী ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ও প্রতিযোগী মনোভাব জাগ্রত করার মাধ্যমে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে এই শিক্ষা পরিবার।