সুশীল মালাকার
শেরপুর প্রতিনিধি
নৃ-জাতিগোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের অন্যতম একটি উত্সব ‘রংচুগালা’। এ গোষ্ঠীর বিশ্বাস তাদের ফসল বৃদ্ধিতে ফসলের দেবতা ‘মিসিসিলং’ এবং সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের প্রয়োজন। আর তাই শত বছর ধরে চলে আসা রীতি অনুসারে বেশি ফসল উত্পাদনের জন্য ফসলের দেবতা ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তারা ‘রংচুগালা’ উত্সবের আয়োজন করে আসছে। ‘রংচুগালার’ অর্থ হচ্ছে চাল থেকে তৈরি চিড়া। এ উত্সবে চিড়া ফসলের জমিতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যাতে সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়ে তাদের ফসল উত্পাদন বাড়িয়ে দেন। আর এসব কার্য সম্পাদন যিনি করেন তাকে গারো সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা বা গারো ভাষায় ‘খামাল’ বলা হয়।
গত ১১ অক্টোবর ঝিনাইগাতি উপজেলার মরিয়মনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উত্সবের আয়োজন করে স্থানীয় ‘ইয়ং মার্চেন্ট ক্রিশ্চান অ্যাসোসিয়েশন’ (ওয়াইএমসিএ) এবং বাংলাদেশ গারো ছাত্র সমাজ (বাগাছাস) ঝিনাইগাতি উপজেলা শাখা। উত্সবের মূলপর্বের প্রার্থনা ও অন্যান্য কার্য সম্পন্ন করেন বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায়ের প্রধান বা খামাল জনসন মৃ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তাহের। বাগাছাস ঝিনাইগাতি শাখার সভাপতি অনিক চিরানের সভাপতিত্বে এবং ওয়াইএসসিএ-এর সভাপতি পবত্রি ম্রং-এর সঞ্চালনায় অন্যান্য অতিথির মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক অঞ্জন ম্রং, স্থানীয় আদিবাসী নেতা হেমার্সান চিরান, অসিম ম্রং, সাংবাদিক ও কবি রফিক মজিদ প্রমুখ। বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায় বিভিন্ন স্থানে যুগ যুগ ধরে এ রংচুগালা উত্সব পালন করে আসছে। যাতে তাদের রীতি-নীতি হারিয়ে না যায় সেজন্য তারা এখন থেকে এই শেরপুর জেলায় নিয়মিত রংচুগালার আয়োজন করবে বলে আয়োজকরা জানান।