প্রতিটি প্রশ্নই হবে তোমার বোর্ড বই অনুসারে

বাংলা  দ্বিতীয়পত্র

রিজিয়া পারভীন,সহকারী শিক্ষক ( বাংলা )

কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

গাজীপুর

স্নেহের পরীক্ষার্থীবৃন্দ, সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্ন হওয়ায় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত পাঠ্যবই লাইন ধরে পড়তে হবে। তাহলে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়া তোমাদের জন্য সহজ হবে। নিয়ম মাফিক পড়াশোনা করবে। পরীক্ষা নিকটবর্তী বিধায় খুব বেশি রাত জেগে থাকা ঠিক হবে  না । তারপরও  কোনো কারণে যদি শরীর খারাপ হয়, তবে অবশ্যই অতি দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। তার আগে মা-বাবার সাথে শেয়ার করবে।

হাতের লেখা ভালো করার জন্য প্রতিদিন এক দেড় ঘণ্টা করে লিখবে এবং দ্রুত লেখার চেষ্টা করবে। কারণ, হাতের লেখা ভালো হলে কাঙি্ক্ষত ফল লাভ করা সহজ হয়। সামনে সময় খুব কম, তাই এখনই যতটুকু সম্ভব সকল বিষয়ের প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়ে রিভিশন করে নাও।

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা বিধায় আমরা গুরুত্ব দেই কম। কিন্ ্তুদুইপত্র একই সাথে ১০০ নম্বর হওয়াতে যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই ভালো নম্বর পেতেও যথেষ্ট শ্রম দিতে হচ্ছে। তবুও আমাদেরকে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। বিদ্যা শিক্ষা করা আর সনদপত্র অর্জন করা কিন্তু এক নয়। তুমি জানার জন্য পড়বে।পড়লেই শিখবে। সনদপত্র অর্জন - তোমার বিদ্যা শিক্ষার প্রান্তিক ফল। যাহোক,আমি বলবো সব বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিবে।

বন্ধুরা, বাংলা প্রথমপত্রে ভালো নম্বর পেতে চাইলে প্রত্যেকটা গল গুকবিতা তোমাকে মনোযোগসহ পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলোর অর্থ বোঝে পড়বে। বিশেষ করে পাঠের উদ্দেশ্য,শব্দার্থ আর পাঠ পরিচিতি ভালো করে আয়ত্তে আনবে।

বাংলা ব্যাকরণ অংশ সিলেবাস দেখে পড়বে। কেননা পাঠ্যবইয়ে অনেক অধ্যায় দেয়া আছে যা তোমাদের সিলেবাসে নেই। যে পাঠগুলো বা অধ্যায়গুলো সিলেবাসে রয়েছে, সেগুলো ব্যাকরণের সঠিক নিয়ম জেনে পড়ার চেষ্টা করবে। বাংলা ব্যাকরণে প্রথমেই আছে ভাষা । এ অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন থাকে ।  সাধু ও চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য , বিভিন্ন পদের সাধু ও চলিতরূপ সম্পর্কে জেনে নেবে । ধ্বনি, বর্ণ, ফলা সম্পর্কে আমি আগেও তোমাদের জন্য লেখা দিয়েছিলাম । আসলে ব্যাকরণ মুখস্থের বিষয় না । ব্যাকরণ পড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই উদাহরণ থেকে সূত্রে যেতে হবে । যত বেশি চর্চা করবে ততই মনে থাকবে । ুপ্রতিটা অধ্যায় থেকে উদাহরণ পড়বে এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিজে নিজে আরও উদাহরণ তৈরি করবে । যেমন সকর্ম ক্রিয়া আর অকর্ম ক্রিয়া পড়ার ক্ষেত্রে সহজে মনে রাখবে যে ক্রিয়ার কর্ম নাই তা অকর্ম আর যে ক্রিয়ার কর্ম আছে তা সকর্ম ক্রিয়া । তাহলে বুঝতেই পারছ ক্রিয়া আর কর্ম এক না । ক্রিয়া হচ্ছে কাজ আর কর্ম হচ্ছে কর্তা যাকে আশ্রয় করে কাজ করে বা যার উপর নির্ভল করে কাজ করে । যেমন : মিনা পড়ে , মিনা বই পড়ে বাক্য দুটি থেকে খুঁজে বের কর মিনা কী পড়ে ? প্রথম বাক্যটিতে মিনা কী পড়ে তার উল্লেখ নাই তাই এই বাক্যে কর্ম নাই । দ্বিতীয় বাক্যটিতে কী পড়ে জানতে চাওয়া হলে উত্তরে বই আসবে। তাহলে এই ‘বই’ হচ্ছে কর্ম । আবার দেখো অঘোষ, ঘোষ, অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনিগুলো সহজে মনে রাখার একটা ছোট্ট কৌশল আমি তোমাদেরকে বলি। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অনেক সময় আসে যে, নিচের কোনগুলো অঘোষ-অল্পপ্রাণ বা ঘোষ-মহাপ্রাণ?

তাহলে এসো দেখে নিই আমরা কীভাবে সহজে মনে রাখতে পারি;

 উপরেরর চিত্রে লক্ষ করো- ‘ক, খ’ অঘোষ, ‘গ, ঘ’ ঘোষ ধ্বনি। আবার ‘ক, গ’ অল্পপ্রাণ, ‘খ, ঘ’ মহাপ্রাণ ধ্বনি। ধ্বনি উচ্চারণে ‘অ’ ধ্বনিও আগে আসে। ‘অ’ আগে হয় তাই অঘোষ, অল্পপ্রাণ আগেই হবে। আবার দেখো ক হচ্ছে অঘোষ-অল্পপ্রাণ এবং গ হচ্ছে ঘোষ-অল্পপ্রাণ। আবার ‘খ’ হচ্ছে অঘোষ-মহাপ্রাণ এবং ‘ঘ’ হচ্ছে ঘোষ-,মহাপ্রাণ। আমরা যদি পাঁচটি বর্গের পঁচিশটি ধ্বনির সর্বশেষ ধ্বনি অর্থাত্ ঙ, ঞ, ণ, ন, ম ধ্বনিগুলোকে নাসিক্য ধ্বনি হিসেবে ধরে নিই, তাহলে বাকি বিশটি ধ্বনিকে তোমরা উক্ত ছকাকারে উপস্থাপন করে অতি সহজেই মনে রাখতে পারো। অবশ্য বর্তমানে ‘ঙ, ন এবং ম’কে নাসিক্য ধ্বনি বলা হয়ে থাকে। ‘ঞ’ হচ্ছে অগ্রতালু আর ‘ণ’ হচ্ছে পশ্চাত্ দন্তমূল ধ্বনি।

এভাবে ব্যাকরণের অন্যান্য অধ্যায়গুলোও কিছু কৌশল করে পড়তে পারো । একটা সার্থক বাক্যের কয়টা গুণ থাকে ? এ প্রশ্নের উত্তরে তোমরা নিশ্চয়ই বলবে তিনটা । তাহলে কী কী গুণ সেটাও নিশ্চয়ই তোমাদের মনে পড়ছে ! চট করে আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি যোগ্যতা মনে রাখার কয়েকটা উদাহরণ নিজে নিজে  লিখে ফেলো । বন্ধুরা, আমি কয়েকটা  উদাহরণ দিলাম মাত্র। তোমরা তোমাদের শিক্ষকদের দেয়া উপদেশ এবং তাঁদের পাঠ বিশ্লেষণ যদি ফলো করে থাকো, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষায় ভালো করবে। ব্যাকরণ হচ্ছে শুধুই চর্চার ব্যাপার। তুমি যদি মনোযোগ দিয়ে চর্চা করো তাহলে আশা করছি আশানুরূপ ফল পাবে।