পরীক্ষাকে করবো না ভয় উত্তম ফলাফলে করবো দেশ জয়

মো.সাইফুল ইসলাম

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

বরুড়া, কুমিল্লা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসাবে আমাকে যেহেতু বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনে যেতে হয়, সে ধারাবাহিকতায় বলছি , বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে আমার সরাসরি কথা বলা, তাদের সুবিধা অসুবিধা এবং পাঠ্য বিষয়ে আলাপ বা জানার সুযোগ হয়।

 

আমার পরিদর্শন  সমীক্ষায় দেখা যায় যে, শিক্ষার্থীরা কম বেশী সবাই পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ বা চিন্তায় থাকে এবং এটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপচারিতায় তাদের উত্সাহ যুগিয়েছি এই বলে যে, “পরীক্ষার  ভালো প্রস্তুতি সাফল্যের উচ্চ সোপান আর এইটাই শুধু সম্ভব একমাত্র  নিয়মমাফিক পড়ালেখা করে তবে এই ভালো ফলাফলের জন্য কিছু কৌশল অনুসরণ করতে হয়। জেএসসি শিক্ষার্থীদের  উদ্দেশ্যে বলছি  যে, তোমরা একটা সার্টিফিকেট পরীক্ষা পার করে দ্বিতীয়বার সার্টিফিকেট পরীক্ষা দিতে যাচ্ছ । এই আসন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের প্রত্যাশায় কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তোমাদের জন্য:

১। দৈনিক কত ঘণ্টা পড়তে হবে তা প্রথমে ঠিক করে ফেলতে  হবে।

২। রুটিন মাফিক কঠিন ও সহজ বিষয়গুলো ভাগ করে নিতে হবে।

৩। পড়াগুলোকে সুবিন্যস্ত করে সাজিয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পড়া শুরু করতে হবে।

 

৪। পরীক্ষাভীতি ঝেড়ে ফেলে নিজের মতো করে রুটিন করে পড়া সাজাতে হবে, কোনদিন কী পড়বে তা আগে থেকে ঠিক করতে হবে।

৫।  তোমরা যা পড়ে শিখেছো তা পুরোপুরি  মনে থাকার কথা না । সেই জন্য পরীক্ষায় নির্ভুল লেখার শর্তে তোমাদেরকে পড়ার পর না দেখে লেখার অভ্যাস করতে হবে।  কারণ কোনো কিছু না দেখে লিখার অভ্যাস করলে তার “ভুল” গুলো সহজে ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে সে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৬। উপস্থাপন কৌশল অনেক সুন্দর হতে হবে। পরীক্ষার খাতায় সুন্দর হাতের লেখা এবং গোছানো উপস্থাপন শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা অধিক নম্বর পেতে সহায়ক।

৭।  একটা কথা মনে রাখবে পরীক্ষার খাতায় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন এবং নির্ভুল  লেখায় নম্বর বেশী। তাই সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে ভালোভাবে। কথায় আছে, “আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী।“

৮। পরীক্ষার খাতায় লিখার সময় সময়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে কারণ টাইম ম্যানেজমেন্ট করা কিন্তু পরীক্ষা ও পরীক্ষার্থীর জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয়।

৯। যে প্রশ্নের উত্তর খুব ভালোভাবে জানা তা আগে লিখতে হবে, এতে কাটাছিড়া কম হবে।

১০। ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর করতে হবে এবং তা ১৫ মিনিট হাতে রেখে রিভিশন করতে হবে।

১১। পরীক্ষা সংক্রান্ত্র  সকল প্রয়োজনীয় জিনিস  পরীক্ষার হলে নিয়ে যেতে হবে, যেমন: প্রবেশ পত্র, রেজি: কার্ড, ক্যালকুলেটর, কলম,রাবার,পেন্সিল,লিখার বোর্ড এবং পানির বোতল।

১২ । পরীক্ষার শুরু হওয়ার কমপক্ষে ৩৫ মিনিট আগে হলে উপস্থিত হতে হবে।

১৩। ওএমআর শীটে বৃত্ত ভরাটে সমস্যা দেখা দিলে হল পর্যবেক্ষকের সাহায্য নিতে হবে।

১৪। প্রত্যেক বিষয়ের বিষয় কোড লিখার ব্যাপারে সচেতন  হতে হবে।

 

আশা করছি যে , তোমরা যদি এই পরামর্শগুলো মেনে চলো তাহলে তোমাদের সাফল্য নিশ্চিত। তোমরাই আগামি পৃথিবীর কর্ণধার। তাই তোমাদের  সব বিষয়ে ভেবে চিন্তে তারপর এগিয়ে যেতে হবে। আশা করি তোমরা তা প্রমাণ করতে পারবে তোমাদের একাগ্রতা ও দৃঢ মনোবল দিয়ে। তোমাদের সকলের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা থাকল।