ছাত্রলীগ নেতাকে স্বপদে বহালের দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের অব্যহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হোসাইনকে স্বপদে বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। 

এদিকে সকাল থেকেই পাথরঘাটায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার থেকেই পাথরঘাটায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন তাকে বহিষ্কার নয় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আবেদন করলে তার অপরাধ জানিয়ে দেয়া হবে।

এনামুলের সমর্থক নেতাকর্মীদের এমন কর্মসূচিকে প্রতিহত করতে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান নেয় তার ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। 

আরও পড়ুন: নিখোঁজের ৩ দিন পর পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশু উদ্ধার

অন্যদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশ লাইন থেকে বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ পুলিশ সকাল থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে পাথরঘাটার বিভিন্ন স্থানে। দুপুর ১২টার দিকে এনামুলের সমর্থক নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল প্রতিহত করতে চাইলে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়

জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হোসাইনকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও  তার বিরুদ্ধে সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ার উল্লেখ করে সাংগঠনিক নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে অব্যাহতি প্রদান করে। এরপর থেকে এনামুলের সমর্থক ও প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এ অবস্থায় এনামুলকে স্বপদে বহালের দাবিতে শুক্রবার পাথরঘাটায় বিক্ষোভ মিছিল এবং শনিবার একই দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলে এই উত্তেজনা শুরু হয়। 

এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জ বাধা উপেক্ষা করে এনামুল হোসাইনের নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে শেষে দুপুর ১টার দিকে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে অনুপ্রবেশকারী এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেনি এবং আওয়ামী পরিবারের সদস্য বলে দাবি করে বলেন, আমি একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রেরর শিকার। তিনি ছাত্র লীগের আদর্শ মেনে এখনো বিয়ে করেননি যদিও শাখার কেউ কেউ বিবাহিত। কিন্তু প্রতিপক্ষ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সমর্থক ছাত্রলীগ নেতারা সেই মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করার জন্য আমার নেতাকর্মীদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়নি। পথে পথে তাদের ওপর হামলাও করেছে। আমার সমর্থক নেতাকর্মীদের মারধর করে ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। মারধরে আমার অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলন কালে তার সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ, সাংস্কিৃতি বিষয়ক উপ সম্পাদক জাহিদ হাসান মিরাজসহ একাধিক সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান নাইম বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালিদ মক্কি ও পৌর সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মধুসহ পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্রলীগের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। 

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য শনিবার বিকালে টেলিফোনে জানান, পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুপ্রবেশ বিষয় তদন্ত করে ‘অব্যাহতি’ দেয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, তিনি আবেদন করলে তার সে সুযোগ দেওয়া হবে।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জেলা সদর থেকে ২ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একজন সহকারী পুলিশ সুপারসহ বিপুল পোশাকধারীর ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।  শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে শহরে পুলিশ নিয়োজিত আছে।

 ইত্তেফাক/এএএম