পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়া আংশিক) আসনে সুদীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের মাঝির দায়িত্বে থাকা দাপুটে নেতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবার ধানের শীষের হাল ধরেছেন। অন্যদিকে নৌকার কাণ্ডারি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড.শামসুল হক টুকু।
এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এড. শামসুল হক টুকু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন পেয়ে জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে পরাজিত করেন। পরে সরকারের বিদ্যুত্-জ্বালানি ও পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। অবশ্য এ আসন হতে ১৯৭০ ও ১৯৯৬ সালে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বিজয়ী হয়েছিলেন।
এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইয়িদ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সাঁথিয়া—বেড়ার অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতা—কর্মীর ধারণা ছিল জনমত জরিপের ভিত্তিতে এবার অধ্যাপক আবু সাইয়িদকেই এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে। কিন্তু তা না হয়ে তৃতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পান এড. শামসুল হক টুকু। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েই বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন, আশীর্বাদপুষ্ট অধ্যাপক আবু সাইয়িদ গণফোরামে যোগ দেন। যিনি আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেছেন, যার গায়ে সর্বদা শোভা পেতো মুজিব কোট, যিনি সাঁথিয়া—বেড়ার মানুষকে ’জয় বাংলা’ বলতে শিখিয়েছেন, যিনি ছিলেন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির আতংক, যার দীর্ঘ বছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সাঁথিয়া—বেড়ায় আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, যিনি আওয়ামী লীগের এক সময়ের ডাকসাইটে নেতা...তিনিই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধেই লড়বেন— এটা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ও বিব্রতকর লাগছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানান। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
ইত্তেফাক/এএম