নাটোর, নওগাঁ এবং টাঙ্গাইল জেলার আটটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার বাবু শেখকে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা পুলিশের চৌকস টিম। রবিবার বেলা ১১টায় নাটোর জেলা পুলিশের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং-এ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার পিপিএম বার এ তথ্য প্রকাশ করেন।
২০০৭ সাল থেকে নওগাঁ জেলায় হত্যাকাণ্ড শুরু করে বাবু শেখ। তারপর টাঙ্গাইলে মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল এলাকার রুপ বানু ও সখিপুর থানার তক্তারচালা এলাকার সমলাকে হত্যা করে। ২০১৪ সালে নাটোরের নলডাঙ্গার স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন লাবনীকে (১৩) ধর্ষণসহ হত্যা, লালপুরের সাবিনা পারভীন সাহেরা, বাগাতিপাড়ার রেহানা বেগম, বাঁশিলা পূর্বপাড়ার আমেনা বেওয়া ও সিংড়া থানার বিগলগলিয়া এলাকার শেফালী খাতুনসহ ৮টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটায় বাবু শেখ। বাবু শেখ নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার হরিশপুর গ্রামের মৃত জাহের আলীর ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার জানান, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে লালপুর থানা চংধুপইলের সাবিনা পারভীন সাহেরাকে হত্যা করে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও ১টি মোবাইল ফোন এবং বাগাতিপাড়া থানার জয়ন্তিপুর এলাকার বৃদ্ধা রেহানা বেগমকে হত্যা করে ১৬ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় লালপুর থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা হয়। এ ব্যাপারে নাটোর জেলা পুলিশের একটি তদন্ত টিম ১৫ অক্টোবর রুবেল আলীকে গ্রেফতার করে।
রুবেল আলীর তথ্য অনুযায়ী লালপুর থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার নাটোরের সোনারপট্টির স্বর্ণ বিক্রেতা লিটন খাঁর কাছে পাওয়া যায়। ১৬ অক্টোবর লিটন ও আসাদুলকে নাটোর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আসাদুলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উপরোক্ত দুটি খুন এবং চুরির ঘটনায় রুবেল আলি ও বাবু শেখ জড়িত। তদন্তের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় বাবু শেখ ওরফে আনোয়ার ওরফে আনার ওরফে কালুকে স্টেশন বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাবু শেখের তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাইরা শাহিনের নিকট থেকে সাবিনা পারভীন সাহেরার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
বাবু শেখকে গ্রেফতারের পর ৮টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়। বাবু শেখ তার জবানবন্দিতে বলেন নওগাঁ জেলার ১টি, টাঙ্গাইল জেলার ২টি ও নাটোর জেলার ৫টি নারী হত্যাকাণ্ডে সে জড়িত।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, আসামি বাবুর সহযোগীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারি বেশে ঘুরে বেড়াতো। এরপর কোন বাড়িতে চুরি করতে পারবে সেটা রেকি করে চুরির পরিকল্পনা করত, তারপর সহযোগীদের সহযোগিতায় পছন্দের বাড়িতে ঢুকে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের ধর্ষণসহ হত্যা করে তাদের মালামাল চুরি করত। নাটোর পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ জানায় মাছ ধরার চেয়ে হত্যা করা অনেক সহজ।
ইত্তেফাক/জেডএইচ