জনতার সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী হতে চান নারুহিতো ও মাসাকো

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক সহজভাবে সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশছেন। পিতা আকিহিতোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজপরিবারের কঠোর রীতিনীতি ও প্রথা ভেঙে একটি জনমুখী ইমেজ গড়ার চেষ্টা করছেন দুজনই। এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো রাজবংশ। চলতি বছর ৩০ এপ্রিল আকিহিতো পুত্র নারুহিতোর জন্য সিংহাসন ছেড়ে দেন। কাল ২২ অক্টোবর ফুলেল সিংহাসনে তাদের আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটছে।

নারুহিতো ও মাসাকো বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে ইংরেজিতে বাতচিত করেন। শিশুদের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন। তারাই প্রথম জাপানের রাজ দম্পতি যাদের ইউনিভার্সিটি ডিগ্রি রয়েছে। কয়েকটি ভাষায় তারা কথা বলতে পারেন। এমনকি তাদের কয়েক বছর বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। এ সময় তারা নিজ হাতে ঘর গৃহস্থালির কাজ করেছেন। আশা করা হচ্ছে রাজপ্রাসাদকে তারা আরো বেশি জনগণের কাছে নিয়ে যেতে পারবেন।

‘যদিও তাদের পূর্বসূরি আকিহিতো ও মিচিকো সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছেন তবে আমি মনে করি বর্তমান রাজ দম্পতি রাজা রাজাদের মতো না থেকে অনেকটা সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করবেন,’ বলছিলেন নাগোয়া ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক হিদায়া কাওয়ানিশি। উল্লেখ্য, ৫৯ বছর বয়সি নারুহিতোই আকিহিতোর তিন ছেলের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। তিনি বড়ো হয়েছেন মায়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। প্রথা মাফিক আয়া বা গভর্নেসদের হাতে নয়। আর দশজন সাধারণ মানুষের ছেলের মতোই বাসা থেকে টিফিন নিয়ে স্কুলে গেছেন। নারুহিতো ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট বিষয়ে গাকুইশিন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হয়েছেন। এরপর গেছেন অক্সফোর্ডে পড়তে। অন্যদিকে ৫৫ বছর বয়সি মাসাকো লেখাপড়াসহ জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন বিদেশে। এই দম্পতির আইকো নামে ১৭ বছরের একটি কন্যা আছে। নিয়ম অনুযায়ী জাপানে মেয়েরা সিংহাসনের অধিকারী হতে পারে না।