খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

বসন্তের গল্প

  মো. শফিকুল ইসলাম

 

১ জানুয়ারি, ২০১৯। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের একঝাঁক নতুন মুখের আনাগোনা। ২৯তম ডিসিপ্লিন হিসেবে যুক্ত হয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)। যে যার ক্লাসরুমে নিজেদের মধ্যে পরিচিতি পর্বে ব্যস্ত। ব্যতিক্রম কেবল আইইআর ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। ২৪টা নতুন মুখ তখনো জানে না কোথায় ক্লাস হবে! এলোমেলো ঘোরাঘুরির পর জানা গেল মূল একাডেমিক ভবনগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন পুরাতন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুটো রুমের বন্দোবস্ত হয়েছে তাদের জন্য। সেখানেই প্রথম বারের মতো একত্রিত হলেন ছয় জন শিক্ষক ও ২৪ জন শিক্ষার্থী।  রঙচটা ক্লাসরুম, আর অন্যদের ফেলে রাখা বেঞ্চগুলোকে আপন করে গুছিয়ে শুরু হলো নতুন পরিবার। সবাই মিলে শপথ নিলেন ভালোবাসার আইইআর ডিসিপ্লিনকে নিয়ে যাবে অনেক দূর। শুরু হয় স্বপ্ন ছোঁয়ার লড়াই।

এরপর খেলাধুলা, অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাস, পরীক্ষা আর সহশিক্ষা কার্যক্রমে বুদ হয়ে যে সময়টা কেটে গেছে তা বয়সের হিসেবে ক্ষুদ্র হলেও নতুনের হিসেবে দীর্ঘ। প্রথম বছরের ক্লাস শেষে প্রাপ্তির খাতাটা ঠিক ভারী না। তবে দমকা হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার মতো ঠুনকোও নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃডিসিপ্লিন ক্রিকেট, ভলিবল কিংবা দাবা খেলায় জয়ের দেখা না পেলেও পেয়েছে প্রতিপক্ষের সমর্থন আর ভালোবাসা। নেই নিজ ডিসিপ্লিনের সিনিয়র। তবু সবসময় পাশে পেয়েছে অন্যদের। এ সুবাদে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন উত্সবে কখনো একাকিত্বের দহনে পুড়তে হয়নি  নবীন এ মুখগুলোকে। প্রাণোচ্ছল আর তারুণ্যে ভরপুর মুখগুলো অল্পতেই জায়গা করে নিয়েছে সবার হূদয়ে। টানা ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ষাটগম্বুজ মসজিদ, রূপসা সেতু, শেখ রাসেল ইকো পার্কসহ খুলনার আশপাশের সব জায়গা ঘোরা হয়েছে। রয়েছে নৈয়ায়িকের উদীয়মান বিতার্কিক প্রতিযোগিতায় মো. হামিম ইসলামের সেরা দ্বিতীয় বিতার্কিক হওয়ার গৌরব। এছাড়া রোটার্যাক্ট ক্লাব আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় ১২৫টি দলের মধ্যে তাদের দুটি দল জায়গা করে নেয় সেরা আটে। শাখাভিত্তিক কিছু আলাদা পাঠ্যসূচি থাকলেও মিল রয়েছে মূল পাঠ্যসূচিতে। শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাজিদ আবির বলেন, দুইটি শাখা হওয়ায় আমাদের দুটো ক্লাসরুমই  ব্যবহার করতে হয়। আরেকটি ব্যাচ আসলে ক্লাসরুম সংকটে পড়তে হবে আমাদের।